আর্থিক মন্দার বাজারেও যে সেক্টরগুলিতে চাকরিপ্রার্থীরা নিশ্চিন্তে

Department of Water Resources

অর্থনৈতিক মন্দা, টাকার মূল্য হ্রাস, জিডিপির পতন এবং সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থানের ওপর তার প্রভাব। ভারতীয় অর্থনীতির বাজারে এ নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বাজারকে  আবার ঊর্ধ্বমুখী করার জন্য নেওয়া হচ্ছে একের পর এক পদক্ষেপ। অন্ধকারের মধ্যে অবশ্য টিমটিম করে কিছুটা আশার আলো জ্বালিয়ে রাখছে হাতেগোনা কয়েকটি ইন্ডাস্ট্রি।

এর আগেও ২০০৩ সালে বিশ্বমন্দার সময়  দেখা গিয়েছিলো রিসেশনের প্রকোপ। কর্ম বিচ্যুতির মাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত ছয় মাসে চিত্রটা একই বরং আরো ভয়াবহ। একদিকে, গাড়িশিল্পে চাহিদা তথা উৎপাদন কমে যাওয়ায় কর্মী ছাঁটাইয়ের খাঁড়া নেমে এসেছে, অন্যদিকে, নির্মাণশিল্পেও কয়েক লক্ষ দৈনিক মজুরির ঠিকাদার কর্মী কর্মহীন বা কর্মহীনতার মুখে। অনেক কোম্পানি খরচ-খরচা কমাতে কাজ চালাচ্ছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে।

এর মধ্যে কিছু সেক্টর রয়েছে যেগুলি এখনো পর্যন্ত বিপদ সীমাবৃত্তের বাইরে। যার মধ্যে অন্যতম হেলথ-কেয়ার ইন্ডাস্ট্রি। এটিকে এমনিতেই এ দেশের অন্যতম বৃদ্ধিপ্রবণ সেক্টর হিসাবে ধরা হয়। প্রতি বছর এই ইন্ডাস্ট্রি ১৬ – ২০% হরে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে। ২০১৭ সালে যা ১৬০০০ কোটির অঙ্কের  ইন্ডাস্ট্রি ছিল, সেটা  ২০২০ সালের মধ্যে ২৮০০০ কোটিতে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। মেডিকেল, হাসপাতাল, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, মেডিকেল ইনশিওরেন্স, আউটসোর্সিং টেলিমেডিসিন এরকম একাধিক ক্ষেত্র সম্বলিত হেলথ-কেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে তাই কাজের পরিমাণ নেহাত কম নয়। ২০১৮তেই এই ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লক্ষ ছাপিয়েছে।

এর পাশাপাশি টক্কর দিচ্ছে পর্যটন শিল্প বা টুরিজম ইন্ডাস্ট্রি।  দেশের জিডিপিতে অবদানের দিক থেকে  ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম ইন্ডাস্ট্রি সারা পৃথিবীতে অন্যান্য দেশের তুলনায় ৭ম স্থানে রয়েছে। আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যে এই ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা ৩২.৫ ট্রিলিয়নে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতি বছরই ৮ – ৯ % হরে এই ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা বৃদ্ধি পায়। বোঝাই যাচ্ছে, এরকম মন্দার দিনেও এই ইন্ডাস্ট্রি কীভাবে বুক চিতিয়ে লড়ে যাচ্ছে কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যের ব্যাপারে।

এরপর আসা যাক এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং সেক্টরে। এই সেক্টরকে সাহায্য করে আমাদের দেশের জনসংখ্যার আধিক্য। ২০২০ সালের মধ্যে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্নাতক ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রার্থীর দেশে পরিণত হব। সারা দেশে শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানই রয়েছে ৪০ হাজারের কাছাকাছি, যা প্রতি বছর ক্রমবর্ধমান। আমেরিকার পর ভারতে সবথেকে বেশি ই-লার্নিং ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাপেল, মাইক্রোসফট-এর মতো কোম্পানিগুলির কেন আমাদের দেশের প্রতি এতো ঝোক সেটা এবার বোঝাই যাচ্ছে। সরকারের ছাড় রয়েছে ১১০% এফডিআই আমাদের শিক্ষা সেক্টরের ওপর। ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত হিসাব বলছে প্রায় ২.৪৭ বিলিয়ন ইউএসডি বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে এই সেক্টরে।

এর পাশাপাশি রিটেল, ফুড, সোলার এনার্জি, হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি বর্তমান সময়ের নিরিখে কর্মহীনতার বা কর্মচ্যুতির হার তুলনামূলক অনেক কম।

নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা  বা শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর নির্ভর করে নিজেদের কর্মজীবনকে আরও শক্তিশালী করতে এই সমস্ত সেক্টরগুলিকে  বেছে নিতেই পারেন নিজেদের কর্মসংস্থানের জন্য। তবে কিছুদিনেই মধ্যেই আর্থিক মন্দা কাটিয়ে অন্যান্য সেক্টরগুলিও পুনরুজ্জীবিত হবে এমনটাই আশা রয়েছে কর্মপ্রার্থী থেকে অর্থনৈতিক মহলে।

 

 

Jobs, Current Jobs in West Bengal

শিক্ষা থেকে সমাজ সংস্কারক বিদ্যাসাগর

বাংলা ও বাঙালির নবজাগরণে যে কতিপয় মানুষ আত্মনিয়োগ করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁদের মধ্যে অগ্রণী। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বাঙালির আসনে তাঁকে অষ্টম স্থানে বসানো হয়েছে।বাংলা গদ্যের জনক না হলেও বাংলাভাষাকে দাঁড়ি-কমা চিহ্ন দ্বারা সুষমামণ্ডিত সুখপাঠ্য করে তোলার প্রথম প্রয়াস তাঁরই।তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে সহজবোধ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন। প্রথম সার্থক গদ্যকার তো তিনিই। ১৮৫৫ সালে বাংলা নববর্ষের দিনে প্রথম বর্ণপরিচয় প্রকাশ করে তিনি বাঙালির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তার দু বছর আগে নিজগ্রামে অবৈতনিক বিদ্যালয় গড়ে সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন। আজ থেকে দুশো বছর আগে মেদিনীপুরের এক অখ্যাত গ্রাম থেকে কলকাতা শহরে এসে শুধু নিজে শিক্ষিত হননি, গোটা সমাজে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে দিতে চেষ্টার অন্ত ছিল না তাঁর।তাঁর হাত ধরেই নারী শিক্ষার এক প্রবল ঝড় বয়ে গেছিল তাঁর সময়ে। তাঁর উদ্যোগেই ১৮৫৭ -৫৮ সালে এক বছরে সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গে প্রায় ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল।আজকের বেথুন কলেজয়িটে স্কুল থেকে বিদ্যাসগর কলেজের গোড়াপত্তন তো তাঁরই অক্লান্ত প্রয়াসে। পাশে পেয়েছিলেন সে সময়ের আরও বহু শিক্ষানুরাগী মানুষকেও। তাঁরাও কম স্মরণীয় নন। এক কথায়, সমাজ সংস্কারক, বিধবা বিবাহ ও স্ত্রী শিক্ষার প্রচলনে বিদ্যাসাগর ছিলেন অগ্রণীর ভূমিকায়।সামগ্রিকভাবে বাংলার নবজাগরণের পুরোধাপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর মেধা, পাণ্ডিত্য এবং দরিদ্র-আর্ত মানুষের প্রতি সহানুভূতিই তাঁকে  একদিকে ‘বিদ্যাসাগর’ অন্যদিকে ‘দয়ার সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।১৮৩৯ সালে হিন্দু ল কমিটির যে পরীক্ষা হয়েছিল তাতে তাঁর পারদর্শিতা দেখে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রথম দিয়েছিলেন।তার আগে সে সময়ের অলংঙ্কার পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি। সেই পরীক্ষায় প্রথম হবার সুবাদে পুরস্কার স্বরূপ পেয়েছিলেন ‘রঘুবংশম’, ‘উত্তর রামচরিত’, ‘মালতীমাধব’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য সংস্কৃত বই। যে বইগুলি তিনি সহজপাঠ্য অনুবাদ করে বাঙালির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তারই ফল স্বরূপ একে-একে আমরা পেয়েছিলাম আখ্যানমঞ্জরী, কথামালা, সীতার বনবাস, কাদম্বরী, মেঘদূতম, হর্ষচরিত, কিরাতার্জ্জুনীয়, বাল্মিকী রামায়ণ প্রভৃতি অনূদিত সাহিত্যসম্ভার, পেয়েছি শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস-এর রূপান্তরে ভ্রান্তিবিলাস। পেয়েছি অসংখ্য উচ্চমানের পাঠ্যপুস্তকও, সংস্কৃত-বাংলা ভাষাশিক্ষা সহজ করার জন্য সমগ্রব্যাকরণ কৌমুদী। বিধবা বিবাহ প্রচলন হওয়া উচিত কিনা, বাল্য বিবাহ রোধ, যেমন প্রশ্ন তুলেছিলেন তেমনই তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব শিক্ষা সংস্কার, সমাজ সংস্কার।

বহু বিবাহ ও বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ দূরীকরণে যে অক্লান্ত সংগ্রাম চালাতে হয়েছিল আজকের দুনিয়ায় তা অনুমান করা কঠিন। ১৮৪১ কর্মজীবন শুরু। একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলার প্রধান পণ্ডিতের পদ। তারপরের ইতিহাস বিস্ততৃ। সংস্কৃত কলেজ, বেথুন সোসাইটি, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই কোনো-না-কোনো ভাবে যুক্ত ছিলেন। নিজ উদ্যোগে সংস্কৃত ডিপোজিটরি প্রেস খুলে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সঙ্গে অনেক সাড়া জাগানো পুস্তক প্রকাশ করেছিলেন।সেই প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম বই বেতাল পঞ্চবিংশতি।আর এই বইতেই প্রথম বিরাম চিহ্নের ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর উদ্যোগে ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। ১৮৫৯ সালের ১ এপ্রিল পাইকপাড়া রাজার সহায়তায় মুর্শিদাবাদের কান্দিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রথম ইংরেজি–বাংলা মাধ্যম স্কুল।১৮৭৩ সালে কলকাতায় গড়ে ওঠা মেট্রোপলিটান কলেজই আজকের বিদ্যাসাগর কলেজ। মেদিনীপুরে তাঁর নামেই গড়ে উঠেছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর নামাঙ্কিত বিদ্যাসাগর সেতু, রাস্তার নামের মধ্য দিয়ে তিনি আজও বাংলা বাঙালির মানসে উজ্জ্বল।১৮৬৪ সালের ৪ জুলাই ইংল্যান্ডের রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটি সদস্য করে নেয়, খুব কম ভারতীয়ই এই সম্মানের অধিকারী। জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, প্রয়াণ ২৯ জুলাই ১৮৯১।

এখন যে সমাজ চলছে সেই সমাজে এক দলের সঙ্গে আরেক দলের লড়াই।আর সেদিন দুশো বছর আগে জন্মানো এই মানুষটি একাই লড়াই করছিলেন একটা গোটা সমাজের বিরুদ্ধে।যখন যে কাজে হাত দিয়েছেন হাজারো প্রতিবাদেও তিনি নিজের ধ্যানধারণা ও বিশ্বাস থেকে চ্যুত হননি। বরং বাধাদানকারীরাই সময়ে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে লজ্জিত হয়েছেন।এমনই ছিল তাঁর কাজের প্রতি গভীরতা, একাগ্রতা ও সত্যনিষ্ঠা।আজকের এই আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়েও জাতি-ধর্ম-বর্ণের যে অবক্ষয়িত নগ্ন চেহারা সমাজের নানা দিকে দৃষ্ট হচ্ছে এমন দুঃসময়ে তাঁর মতো আদর্শ সত্যনিষ্ঠ আলোকবর্তী পুরুষের বড়ই অভাব অনুভূত হয়। যে শিক্ষার জন্য তিনি প্রাণপাত করেছিলেন সেই শিক্ষাঙ্গনেই আজ তিনি লুণ্ঠিত।আজও নারীর অবমূল্যায়ন-অবমামনা, বাল্যবিবাহ সমাজ থেকে নির্মূল করা যায়নি। জাতের নামে বজ্জাতি বেড়েছে বই কমেনি। সমাজের এই দিকগুলি নির্মূল করাই হবে তাঁর প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানানো। অনেক বেশি কাজের ও প্রয়োজনীয় হবে স্কুলছুটদের স্কুলে টেনে আনা ও বিদ্যায়তনগুলিকে প্রকৃতই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। এমন এক সময় আমরা এই মানুষটির দুশো বছর সমহিমায় পালন করছি যখন বাংলা ভাষা এবং বাঙালির আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে বাঙালির বাঙালিত্ব নিয়ে সব মহলে সংশয়বিদ্ধ আলোচনা বিদ্যমান। বাংলা ভাষার স্কুলগুলির পড়ুয়ার সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান। এই সংশয় ও উৎকন্ঠার মধ্যে দিয়েই বিদ্যাসাগরের দুশো বছর।

 

নিয়োগ পর্ষদের আনসার কি ত্রুটি, চিন্তায় ফেলছে সরকারি চাকরি প্রার্থীদের

Answer Key, Govt Job, Govt Job 2019

এখন বেশ কিছু সরকারি চাকরির পরীক্ষার আন্সার-কি পরে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই পরীক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সেই আন্সার-কিতে কোনো ভুল থাকলে তা চিহ্নিত করার জন্য। তারপর সবার সব চ্যালেঞ্জ বা অভিযোগ খুঁটিয়ে পুনর্বিবেচনা করে তৈরি হচ্ছে চূড়ান্ত আন্সার-কি। যোগ্য পরীক্ষার্থীদের প্রতি সুবিচারের জন্য অত্যন্ত সাধুবাদযোগ্য পদক্ষেপ। কিন্তু এর ফলে বদল হয়ে যাচ্ছে মেধা তালিকায়। কম হলেও সাধারণত কিছু ভুল ধরা পড়েই, একটি-দুটি বা ছ-সাতটি বা ১২-১৩টিও হতে পারে। ফলে আগে ঘোষিত মেধাতালিকায় যোগ হচ্ছে কিছু নাম, কোনো ক্ষেত্রে বাদ যাচ্ছে আগের তালিকার কিছু।

তৈরি হচ্ছে একাধিক প্রশ্ন। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এত সংখ্যক প্রার্থীর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে যখন পরীক্ষার পর আন্সার-কি প্রকাশ করা হচ্ছে, তাতে ভুল বা ত্রুটি ধরা পড়ছে কেন, বারংবার? স্কুল সার্ভিস কমিশন বা রেল থেকে শুরু করে স্টাফ সিলেকশন কমিশন সহ যে-কোনো নিয়োগ পর্ষদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের এক্সপার্ট কমিটি বা অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের দিয়ে উত্তর বা উত্তরপত্র তৈরি করেন। আন্সার-কি প্রকাশ করা হয় তাঁদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই। সেই উত্তরগুলি তো একশো শতাংশ নির্ভুল হবে এমনটাই প্রত্যাশিত। সেই প্রত্যাশায় ঘা লাগে, কারও-কারও ক্ষেত্রে অত্যন্ত শোচনীয় ভাবেও। অনেকেই ওই চাকরির অনেকটা কাছাকাছি এগিয়েছেন মনে করে এগিয়ে যান ভবিষ্যত জীবনের পরিকল্পনাতেও। সেই আশাভঙ্গ যাঁদের হয়, সবার সেই ধাক্কার মুখোমুখী হবার সক্ষমতা সমান থাকে না। কারও-কারও ক্ষেত্রে হয়তো এবারের সুযোগটাই ছিল সরকারি চাকরির পরীক্ষার শেষ সুযোগ। সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছে এই ধাক্কার আঘাত অনেক বেশি।

ক্ষীণ হলেও অন্য একটি অবিচারের সম্ভাবনাও থাকছে। ধরে নেওয়া যাক, কোনো পরীক্ষায় একটি প্রশ্নসেটের উত্তরপত্রের ১০০টি আন্সার-কি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে এমন একটি বা দুটি আন্সার-কি ভুল থাকতে পারে যা কোনোক্রমে পরীক্ষার্থীরা খেয়াল না করে বা ধরতে না পেরে অভিযোগ জানালেন না। কেউ-কেউ ক্ষীণ সন্দেহ হলেও এগোন না চ্যালেঞ্জ-পিছু নির্ধারিত অর্থব্যয় করার শর্ত থাকায়। তাহলে সেই ভুল উত্তরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। যা একেবারেই অনভিপ্রেত, অবিচার। পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার পরেও আন্সার-কি ভুল না ঠিক সেটা নির্ধারণ করার জন্য অভিযোগ জানাতে হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি উদাহরণ দেওয়া যাক, কেন্দ্রীয় স্টাফ সিলেকশন কমিশনের কনস্টেবল (জিডি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছিল গত ২০ জুন, যেখানে পরবর্তী শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষার জন্য ৫,৩৪০৫২ জনের তালিকা প্রকাশিত হয়। এরপর আন্সার-কি নিয়ে কিছু প্রার্থীর অভিযোগ জমা পড়ে, তার ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করার পর মোট ১৩টি উত্তর ভুল বলে সাব্যস্ত হয় এবং তার ভিত্তিতে মেধাতালিকায় বদল করে নতুন তালিকা প্ৰকাশ করা হয়েছে গত সপ্তাহে। যে প্রাথী এতদিন তাঁর তালিকায় নাম রয়েছে ভেবে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, জীবনের পরিকল্পনাতেও কেউ-কেউ বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন, দেখা যাবে তাঁদের কারও-কারও নাম নতুন তালিকায় আদৌ নেই পুনর্মূল্যায়নের পর। এর আগে রেলের বিজ্ঞপ্তি নং ০৩/২০১৮ অনুযায়ী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ পরীক্ষায় আন্সার-কি নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করে দ্বিতীয়বার সংশোধিত আন্সার-কি প্রকাশ করা হয়েছিল। রেলের গ্রুপ-ডি পরীক্ষার কাট-অফ মার্কস, আন্সার-কি নিয়ে একাধিক চর্চা হয় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রশ্ন/উত্তরের ৬ টি ভুল ধরা হয় উচ্চ আদালতের মাধ্যমে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়ে।

এখানেই ভরসা নিয়ে সংশয় দানা বাঁধে। পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের একটা বাড়তি দায়িত্ব থেকে যাচ্ছে আন্সার-কিগুলি মিলিয়ে দেখার, সেটা নিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে (অভিযোগ পিছু প্রথমেই নির্দিষ্ট অর্থ ব্যয় করে) অভিযোগ জানানোর। এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য আবার কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়। স্টাফ সিলেকশন কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, আন্সার-কি বা মূল্যায়নপত্র যখন প্রকাশ করা হয়, তখন চূড়ান্ত স্বচ্ছতা ও সাবধানতার সঙ্গেই করা হয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে টাইপিং জনিত সমস্যার জন্য এরকম ত্রুটি ধরা পরে। সেটিকে শুধরে নেওয়ার জন্যেই পরীক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু করণিক পর্যায়ের জন্যই হোক বা যে-পর্যায়ের জন্যই হোক তার পরিণাম সব পরীক্ষার্থীর কাছে সমান নয়। ফলে ভরসার জায়গাটা গড়ে তুলতেই হবে, যে-কোনো মূল্যে। এখন কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায়, মঙ্গলযানের যুগে মাছিমারা কেরানির বা দায়িত্বহীন আধিকারিকের স্মৃতিও মুছে যাওয়া উচিত নয় কি? পরীক্ষা নেবার আগেই নির্বিকল্প ভাবে তৈরি থাকা দরকার একশো শতাংশ নির্ভুল প্রশ্নপত্র, আন্সার-কি।

 

 

 

 

 

Answer Key, Govt Job, Govt Job 2019

চা নিয়ে চর্চা : পেশার জায়গা দিচ্ছে টি ম্যানজেমেন্ট কোর্স

Tea Management Course, Course in Tea Management, Course on Tea Testing, Tea Testing Course

সকালে উঠে বা ক্লান্ত হয়ে এসে এক কাপ গরম চা। এর জবাব নেই। অনেকেরই অজানা, চা পান করাও শেখানো হয়— বাচ্চাদের যেমন বড়রা শেখান, বড়দেরও শেখানোর রীতিমতো কোর্স আছে।  আরেকটু খুলে বললে, চা পান করে তার স্বাদ নির্ণয় করাটা শেখানো হয় বিশেষ ট্রেনিং কোর্সের মাধ্যমে। শুধু তাই নয় এই টি টেস্টিং কিন্তু একটা বিশাল পেশার জগৎ, যেটা দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র-ছাত্রীদের ধ্যান-ধারণার পরিমণ্ডলের অন্তরালে রয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, চা আমাদের রাজ্যের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্যও বটে। আর এই “চা”কে কেন্দ্র করেই রয়েছে টি টেস্টিং ছাড়াও একাধিক অন্যরকম পেশায় প্রবেশের সুযোগ। যার জন্য আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে “টি ম্যানেজমেন্ট” কোর্স করে।  দেশে তথা আমাদের রাজ্যেও টি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে।

টি ম্যানেজমেন্ট কী—

“চা”-এর মতো বহুলব্যবহৃত এই পানীয়কে ঘিরে উৎপাদন থেকে বাজারীকরণ— এই মাঝের সমগ্র বিষয়টিকে একত্রে বলা যেতে পারে টি ম্যানেজমেন্ট। চা গাছ রোপন, গাছের পাতা থেকে প্রস্তুতিকরণ, চা ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং, টেস্টিং একাধিক বিষয় রয়েছে টি ম্যানেজমেন্টের মধ্যে। চা উৎপাদনের দিক থেকে সারা বিশ্বে দ্বিতীয় এবং রপ্তানির দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত, চা অন্যতম প্রধান বেভারেজ হিসাবে বিক্রির দিক থেকে এই দেশ সবার থেকে এগিয়ে সুতরাং এর থেকেই বোঝা যায়, টি ম্যানেজমেন্ট পেশার দিক থেকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

টি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়ার জন্য যোগ্যতা—

স্নাতক স্তরের মধ্যে আলাদা করে কোনো বিশেষ বিষয় নিয়ে পড়ার বাধ্যবাধকতা বা স্নাতক স্তরে এই নিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। তবে কৃষিবিদ্যা, উদ্যানবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা এই বিষয়গুলি নিয়ে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশুনা করে থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে। কিন্তু পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি চা-এর উপর নির্ভর করা ব্যবসা-বাণিজ্য, চা উৎপাদনের জন্য দেশের জলবায়ুর ভূমিকা ও প্রভাব, দেশের টপোগ্রাফি, জিওগ্রাফি এই সমস্ত আনুসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

কি রকমের কোর্স করা যায়—

যাঁরা টি টেস্টিং নিয়ে এগোবার কথা ভাবছেন তাঁরা স্নাতক হবার পর এর সার্টিফিকেট কোর্স করতে পারেন। এছাড়া টি টেস্টিং অ্যান্ড মার্কেটিং, টি এস্টেট ম্যানেজমেন্ট এরকম বিষয়গুলি নিয়ে সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, বিএসসি, এমএসসি এরকম একাধিক কোর্স রয়েছে।

কোথায় পড়া যেতে পারে—

আমাদের রাজ্যে দার্জিলিং টি রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশান ও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স করা যেতে পারে। রাজ্যে কয়েকটি নামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা কোর্স করার জন্য। রাজ্যের বাইরে রয়েছে অসম এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, ব্যাঙ্গালোরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব প্ল্যান্টেশন ম্যানেজমেন্ট, তামিলনাড়ু ইউনিভার্সিটি থেকে টি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশুনা করা যেতে পারে।

কাজের সুযোগ কেমন—

পড়ার সুযোগ কম অথচ চাহিদা সাংঘাতিক, অতএব টি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজের ক্ষেত্র যথেষ্ট বিস্তৃত। টি টেস্টিংয়ের কাজের সুযোগ তো রয়েছেই, তার পাশাপাশি, টি মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং, চা বাগানগুলিতে প্ল্যান্টেনশন, প্রসেসিং-এ কাজের জায়গা রয়েছে। চা প্রস্তুতকারী কারখানা, কোম্পানিগুলিতে নানা পদে কাজের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও কোম্পানিগুলিতে কনসালট্যান্ট হিসাবে কাজের জায়গা থাকে। রয়েছে রিসার্চ করার বিষয়টিও। এটা সর্বজনবিদিত, অসম চা ও দার্জিলিং চা সারা পৃথিবীতে সুখ্যাত। পানীয় হিসাবে চায়ের জনপ্রিয়তাও বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ স্থানে। কাজেই, আগামীদিনে কাজের জায়গা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এইসব দিকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পর্যটন শিল্প, হোটেল-আতিথেয়তা শিল্প ইত্যাদির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বাড়ছে প্রশিক্ষিত টি টেস্টারেরও প্রয়োজন।

 

 

Tea Management Course, Course in Tea Management, Course on Tea Testing, Tea Testing Course

ডাক্তার, সমাজ সংস্কারক নারী মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি

বাবা ছিলেন সে সময়ের চেন্নাইয়ের মহারাজা’স কলেজের অধ্যক্ষ। মা দেবদাসী। বাবা দেবদাসী প্রথার মেয়েকে বিয়ে করার জন্য সমাজ থেকে একঘরে হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যেমন দমে যাননি। তেমনই চেয়েছিলেন মেয়েকে এমন শিক্ষিত করে তুলতে যাতে সমাজে সম্মান পায়। মেয়েরও প্রবল বাসনা, প্রবল অনুরাগ পড়াশোনার প্রতি। শিক্ষকরা যারপরনাই স্নেহ করতেন। কিন্তু সেখানেও বাধা। সেই মেয়েকে পড়াশোনা করতে-করতেই বয়ঃসন্ধির সময়ে পড়া ছাড়তে হয়েছিল। অগত্যা বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা। কিন্তু যে মেয়ের মনের মধ্যে সব বাধা জয় করবার স্বপ্ন তাকে কে আটকাবে। এই মেয়েই তো পরবর্তী কালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেত পাড়ি দিয়েছিলেন। সেই সময়, যখন মেয়েদের ঘরের বাইরে বেরোনো ছিল কঠিন থেকে কঠিনতর।

যে কলেজে ভর্তি হলেন সেই কলেজে একমাত্র মহিলা ছাত্রী মুথুলক্ষ্মী। কিন্তু কিছুতেই দমবার পাত্রী নন। সেই সঙ্গে বাবার কাছ থেকে পেয়েছিলেন শিক্ষার প্রতি সহায়তা। ১৯০৭ সালে ভর্তি হলেন মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজে। ১৯১২ সালে সফল ডাক্তারি কন্যা। ভারতবর্ষের প্রথম দিককার ডাক্তারদের মধ্যে অন্যতম। এটা সেই সময় যখন মেয়েরো ঘরের মধ্যে আটকে। সেখানে মুথুলক্ষ্মী এক নতুন আলোকবর্তিকা। মাদ্রাজ সরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও চক্ষু বিভাগের প্রথম মহিলা হাউস সার্জন হয়ে যোগ দিলেন। তারপর আর থেমে থাকা নয়। সান্নিধ্যে এলেন অ্যানি বেশান্ত-এর। সঙ্গে পেলেন মহাত্মা গান্ধীকে। মুথুলক্ষ্মীর ভাবনায় এল ব্যাপক পরিবর্তন। চারিদিকে অসহায় নারীর হতভাগ্য অবস্থা দেখে ঝাঁপিয়ে পড়লেন নারী ও শিশু উন্নয়নের লক্ষ্যে। মহিলাদের মুক্তির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন। ভাবনা শুরু তখন থেকেই। দরিদ্র মহিলা ও শিশুদের শিক্ষিত করে তোলার বাসনায় নিজেকে নিয়োজিত করলেন। ১৯১৭ সালে উইমেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোশিয়েসনের সঙ্গে যুক্ত হলেন। দরিদ্র মহিলা ও শিশুদের সেবা করার উদ্দেশ্যেই ১৯৩০ সালে মাদ্রাজে গঠন করেছিলেন ‘আভাই’ বাংলায় যা অভয় হোম। যেখানে দরিদ্রদের নিখরচায় শিক্ষা, পোশাক ও খাদ্য দেওয়া হত। যা আজও বর্তমান। কস্তুরবা হসপিটাল গড়ে তোলার পেছনে ছিল তাঁর অনন্য শক্তি ও উদ্যম।

নানা বাধা-বিপত্তিকে ডিঙিয়েই ব্রিটিশ ভারতে প্রথম মহিলা বিধায়ক হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন মুথুলক্ষ্মী। তাঁর প্রথম হওয়ার তালিকায় রয়েছে আরও অনেক। ১৯৩৭ সালে মাদ্রাজ কর্পোশনের প্রথম বয়স্কা নারী। ১৯৫৪ সালে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বোর্ডের প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান। আইন পরিষদের প্রথম মহিলা উপরাষ্ট্রপতি। তাঁর লেখা বই মাই এক্সপেরিয়েন্স অ্যাজ লেজিসলেটর আইন পরিষদে যা স্বীকৃত হয়েছিল

সমাজে বহুবিবাহ বিরোধী বিল এনেছিলেন। সেই সঙ্গে পতিতালয় ও নারী ও শিশুদের পাচার বিল তৈরি করিয়েছিলেন। সেই বিল পাস হয়েছিল ১৯৩০ সালে। শুধু কি তাই মুসলিম মেয়েদের জন্য পৃথক হস্টেল স্থাপন করেছিলেন এবং হরিজন বালিকা বিদ্যালয়ের জন্য বৃত্তিপ্রদান করেছিলেন। এবং সেইসময় সরকারকে পুরুষদের বিয়ের বয়স ২১ করারও পরামর্শ দিয়েছিলেন। উইমেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে মুথুলক্ষ্মী ক্যান্সার রোগীদের জন্য বিশেষ ত্রাণ তহবিল গঠন করেন। অল এশিয়ান উইমেনের চেয়ারম্যান হন। সারা জীবন নারী ও শিশু সম্পর্কিত অসংখ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কার্যক্রমের  সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর তাঁর সারাজীবনের এইসব কৃত্বিত্বের জন্যই ভারত সরকার ১৯৫৬ সালে তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’-এ ভূষিত করে।

তামিলনাড়ু সরকার এই মহতী নারীর সম্মানেই প্রতি বছর ৩০ জুলাই দিনটিকে ‘হসপিটাল ডে’ হিসেবে পালন করে চলেছে।

আজকের পৃথিবীতে এই চন্দ্রযানের দিনে নারীর জয়জয়কার। আমাদের এই চন্দ্রযানের পেছনেও রয়েছে দুই মহান নারীর কৃতিত্ব। আর আজ থেকে একশো বছরেরও বেশি সময়ের আগে সমাজ সংস্কারক, নারীবাদী এমনই এক নারী মুথুলক্ষ্মী দৃষ্টান্ত হয়েছিলেন অনেক কিছুতেই প্রথম নারী হিসেবে। তাঁর জন্ম মাদ্রাজের পুড়ুকাত্তাইয়ে ৩০ জুলাই ১৮৮৬। মৃত্যু ২২ জুলাই ১৯৬৮। ৮১ বছরের এক বর্ণময় জীবন।

 

বিশ্ব উষ্ণায়ন আগামী দিনে থাবা বসাবে কর্মসংস্থানেও

Employment, Indian Employment

পরিবেশ দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি, জল সংকট এবং সর্বোপরি জলবায়ুর আমূল পরিবর্তন, এতদিন এগুলিই ছিল বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য মানব সমাজের ওপর প্রভাব ফেলার সবথেকে ক্ষতিকর দিকগুলি। এবার তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও।

শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও, আগামী দিনে কর্মসংস্থান এবং কর্মসময়ের উপর বিশ্ব উষ্ণায়ন খুব খারাপ প্রভাব ফেলতে চলেছে, যার অনেকটাই আবার ভারতের মতো দেশেরউপর।  সম্প্রতি, রাষ্ট্রপুঞ্জের লেবার এজেন্সি এরকমই একটি আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে। ইউএন লেবার এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের মোট ওয়ার্কিং আওয়ার অর্থাৎ কর্ম সময়ের থেকে প্রায় ৫.৮% সময় কমে যাবে। যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে অতিরিক্ত হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন।

‘Working on a Warmer Planet: The Impact of Heat Stress on Labour Productivity and Decent Work’ নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক লেবার এজেন্সি জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আউটফিল্ডে বা আউটডোর কাজের ক্ষেত্রে বিপদের মুখে পড়তে হবে কর্মীদের। সবথেকে বেশি প্রভাব পড়বে কৃষি ও নির্মাণ শিল্পে। তার কারণ এই দুটি ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ সময়ে খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়। কাজের গতি ও স্বতঃস্ফূর্ততা কমবে শ্রমজীবীদের। ভারতে মোট কর্মসময়ের ৫.৮% কমে যাওয়া মানে প্রায় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার ফুল টাইম কাজ হারানোর সমান।  এই দুটি সেক্টরের পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা, পরিবহণ, বিপণনে ঘোরাঘুরির কাজ, পর্যটন, ক্রীড়া, অন্যান্য ঘোরাঘুরি ভিত্তিক কাজ— এরকম একাধিক ক্ষেত্রে কাজের উপর উষ্ণায়নের যথেষ্ট প্রভাব পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

ভারতের মতো বাংলাদেশ, নেপাল, কলম্বিয়া এরকম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৯০ % কর্মীই অসংগঠিত শ্রমজীবী। প্রতিকূল উষ্ণ পরিবেশে শ্রমজীবীদের হিটস্ট্রোক তাপাহত হওয়া থেকে শুরু করে বিবিধ স্বাস্থ্য সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি কর্মসংকটও এবার ভাবনা বাড়িয়েছে পরিবেশমহলে। ভাবতে হবে রক্ষামূলক ও বিকল্প ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতির কথা।

 

 

 

 

Employment, Indian Employment

শিক্ষাক্ষেত্রে কতটা আলাদা উন্নত দেশগুলি ? দেখে নিন একনজরে

Education in India, Education System in India, Best Education System

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একসময় কক্ষের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এসে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির প্রাঙ্গণে পড়াশোনার প্রথা চালু করেছিলেন, এখন পড়াশুনার অনেকটা অংশ নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে কম্পিউটার, মোবাইল, অ্যাপসের মাধ্যমে।

আসলে সময়, পরিস্থিতি , বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন মানব সমাজের উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের জীবনধারাকে বদলে দেয়,  যার প্রভাব পরে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আঙ্গিকও পরিবর্তিত হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।

প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যন্ত সময়কাল ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যতের রাস্তা তৈরি করে দেয়। সবাই এটা জানেও যে, কোনও কিছুকে শক্তিশালী করে তোলার জন্যে, তার ভিতটা সুদৃঢ় হওয়াটা খুব জরুরি। অর্থাৎ শিক্ষাক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েদের প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে উপযুক্তভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যারা অনেকগুণ এগিয়ে, সেইসমস্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে একটু নজর দেওয়া যাক—

ফিনল্যান্ড: এডুকেশন সিস্টেম-এর কথা উঠলে যে দেশের কথা প্রথমে আসবে তা হল ফিনল্যান্ড।  ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট -এর রিপোর্ট যা বলছে, তাতে এই দেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকে। ৬ বছর না হলে এখানকার বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারে না। তার আগে পর্যন্ত পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে হেসে-খেলে কাটিয়ে দেওয়ার সময়। প্রথম স্কুলে যাওয়ার পর খেলা-ধুলার মাধ্যমে তাদের প্রথম পাঠ্যক্রম শেখানো হয়।  ৭ বছর বয়স থেকে মূল শিক্ষায় যুক্ত হতে পারে। পরবর্তীকালে তাদের এমন বিষয় বেছে নিতে হয়, যে বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশুনা বা কাজের ক্ষেত্রে যেন “ডেড এন্ডে’ না আসে।

সুইজারল্যান্ড: এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে মানা হয়। এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শুরু থেকেই ছেলে-মেয়েদের চারটি রাষ্ট্রীয় ভাষা শেখানো হয়। এই বহুভাষিক শিক্ষাব্যবস্থা পরবর্তীকালে ছাত্র-ছাত্রীদের পেশার ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধা পাইয়ে দেয়। এছাড়াও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাকাডেমিক সিস্টেমের পাশাপাশি অ্যাপ্রেন্টিস ব্যবস্থা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই পড়াশুনাটাকে কর্মমুখী করে দেওয়া হয়েছে।

কানাডা: উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গেলে অবশ্যই বলতে হবে কানাডার কথা। এখানে একটু উঁচু ক্লাস থেকেই অ্যাসাইনমেন্ট ভিত্তিক পড়াশুনার প্রথা চালু রয়েছে। সেগুলি করার জন্য যথেষ্ট সময়ও দেওয়া হয় ছাত্র-ছাত্রীদের। এ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নিজের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা ও বিচারবোধ গড়ে নেওয়ার একটা সুযোগ থাকে। যে কোনো স্কুলেই পড়াশুনার পাশাপাশি হেন্ কোনো বিষয় নেই যেটা হাতে-কলমে শেখ যায় না। গান, নাচ, অর্কেস্ট্রা থেকে শুরু করে প্রায় যে-কোনো ধরনের খেলাও রয়েছে স্কুল স্তরেই।

দক্ষিণ কোরিয়া:  দক্ষিণ কোরিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশের  শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিমান  সবথেকে বেশি। এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আবার খুবই শৃঙ্খলাপরায়ণ  ও নিয়মমাফিক। প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকেই এখানে যথেষ্ট নিয়মমাফিক পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে। এমনকি প্রাক-প্রাথমিক স্তরে সপ্তাহের প্রতিদিনই বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো হয়। মূলত খেলাধুলার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ হয় এই সময়। ছাত্র-ছাত্রীদের সু-শিক্ষা ব্যবস্থা আরও সংহত করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভালো পরিমাণ বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

এই সমস্ত দেশগুলোর পঠন-পাঠন ব্যবস্থা ঘেঁটে দেখলেই বোঝা যায়, তাদের নিজেদের দেশের শিক্ষার মানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে  উন্নত ও আধুনিক মানের পদ্ধতি চালু রয়েছে, যা অনেকটাই অনুকরণীয় অন্যান্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ও মানের উন্নতির জন্য।

 

 

 

 

Education in India, Education System in India, Best Education System

বিশ্ব সাইকেল দিবস : সাইকেল নিয়ে নানা কথা

Bye Cycle

ডাক নামে কেউ-কেউ বলত ‘শখ–ঘোড়া’ বা ‘বেলে ঘোড়া’। এই নাম শুনলে একালের অনেকেই একটু ঘাবড়ে যাবেন। কিন্তু সেকালে অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় দুই শতাব্দী আগে আজকের সাইকেলকেই ডাকা হত শখ-ঘোড়া নামে। কেউ-কেউ মানবচালিত মেশিনও বলত। কারণ চাকা থাকলেও আকার ও আয়তন ছিল অনেক বড় এবং তা মেশিনের সাহায্যে চালাতে হত।

সে এক মর্মান্তিক ঘটনা। হঠাৎ আগ্নেয়গিরির কবলে গোটা মাঠের ফসল তো পুড়ে গেলই সেই সঙ্গে বেশ কিছু ঘোড়াও আগ্নেয়গিরির আগুনে মারা গেল। সেই দিন থেকেই শুরু। ফসলের মাঠের বিস্তৃত এলাকায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত যাবার ভাবনাচিন্তা শুরু। জার্মানির এক সিভিল সার্জন ব্যারন কার্ল ফন ড্রেসের-এর মাথা থেকে বেরল এক নতুন ধরনের যান। এবং সেই যান পেটেন্টও নিলেন তিনি। কখনও দু চাকা, কখনও তিনচাকা প্রভৃতি রূপ পালটে ছড়িয়ে পড়ল জার্মানি ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে। লন্ডনের ডেনিস জনসন নামক এক উৎসাহী ১৮১৮ সালে তৈরি করলেন আরেক ধরনের যান। যা দুচাকায় চলে। ক্রমশই এই যানটি বিভিন্ন প্রান্তে শুধু উৎসাহ নয়, প্রবল উদ্দীপনায় জনপ্রিয় হয়ে উঠতে লাগল কাজের সুবিধায়। একদিকে জনপ্রিয়তা অন্যদিকে তার রূপ পরিবর্তন হয়ে কী করে আরও সহজ স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে সেই ভাবনা। আমরা বর্তমান যুগের আধুনিক সাইকেলের অতীত দিকে তাকালে দেখতে পাব এই দুশো বছরে তার অবয়ব বা রূপ পরিবর্তন হয়েছে প্রায় দুশোবারেরও বেশি। এক অর্থে ১৮৬০ থেকে ১৮৮০ ছিল বাইসাইকেলের বিবর্তনের গতি। দু চাকার পিঠে ভর করে দ্রুত এক স্থান থেকে আরেক স্থানে কাজে-কর্মে চলে যাওয়া যায়। শুধু কি পুরুষের উপযোগী? নারীদের উপযোগী সাইকেলও বেরিয়েছে। সেদিন নারীদের উপযোগী সাইকেল নিয়ে কম আলোড়ন হয়নি গোটা দুনিয়ায়। ফেমিনিজম অ্যান্ড সাইকেল। সাইকেল নিয়ে বিজ্ঞানী-ডাক্তার মহলে হইচই। সব প্রতিরোধকে ডিঙিয়ে দু চাকার সাইকেল গোটা বিশ্বে স্থান করে নেয়। সাইকেলে চড়তে গেলে নাকি স্কার্টের বাধায় মেয়েদের অসুবিধে। তৈরি হল মেয়েদের উপযোগী সাইকেল। মাঠের ফসল দেখাশোনার থেকে যুদ্ধের কাজেও সেদিন সাইকেল এক অনন্য ভূমিকা নিয়েছিল। এই সাইকেলের উন্মাদনাতেই সেদিন ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট এলিজাবেথ উইলিয়ার্ড গড়ে তুললেন ‘উওমেন ক্রিশ্চিয়ানস’ টেম্পারেন্স ইউনিয়ন’ (WCTU)। তিনি লিখেছিলেন ‘এ ওম্যান রাইডস অন এ হুইল’। নারীশক্তির বহিঃপ্রকাশ সেদিন ছিল সাইকেল। আর এই সাইকেলের কথা বললেই উঠে আসে পৃথিবীখ্যাত আয়ারল্যান্ডের লেখিকা বিয়াত্রিচ গ্রিমশ (Beatric Grimshaw)-র কথা। ১৮৭০ সালে জন্মানো এই লেখিকা প্রথম জীবনে সাইকেলে চড়েই কলেজে গেছেন। সেই সাইকেলই তাঁকে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সাংবাদিকতার পেশায় নিয়ে এসেছিল। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা থেকে বিশ্বের নামী কাগজের সম্পাদক এবং মালিকও হয়েছিলেন। সেই নারী সম্পাদক-লেখিকার উত্থানের সে আরেক রোমাঞ্চকর কাহিনি।

এই সাইকেল উন্মাদনার দিনেই সেদিন ইংল্যান্ড থেকে খবর এল তিন বাঙালি সন্তানের কথা। যাঁরা ইংল্যান্ডের পথে সাইকেল চালানোয় হাত পাকাচ্ছেন। তখন ইংল্যান্ড তাঁদের ঠিকমতো চিনে উঠতে পারেনি। পরবর্তীকালে তিন জনেই পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। এই তিনজন হলেন বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু, বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায় আর স্বামী বিবেকানন্দ। সঙ্গে জগদীশঘরণী লেডি অবলা বসু। ইংল্যান্ডের পথে সাইকেল চালিয়ে রপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ১৮৯৬ সালে এপ্রিলের শেষে স্বামীজি ইংল্যান্ডে সাইকেল চড়া অভ্যেস করেন। সেখানেই নরেন্দ্রনাথ একদিন সারদানন্দ ও ভাই মহেন্দ্রনাথকে বললেন, ‘চ সকলে মিলে সাইকেল চড়ি।’ তাঁদের সেই সাইকেল চালানোর কথা পাই উনিশ শতকের কলকাতাতেও। জগদীশচন্দ্র চন্দননগর ছেড়ে কলকাতার মেছুয়ায় থাকাকালীন খুব ভোরে উঠে সাইকেল নিয়ে চলে যেতেন গড়ের মাঠে। সঙ্গে থাকত ভগ্নিপতি আনন্দমোহন বসুর ভ্রাতুষ্পুত্র হেমেন্দ্রমোহন বসু। এই হেমেন্দ্রমোহনই প্রথম কলকাতায় সাইকেলের ব্যবসা শুরু করেছিলেন।

অনেক যুদ্ধ, অনেক পাহাড়পথ পেরিয়ে আজ সাইকেল অন্যতম পরিবেষদূষণমুক্ত যান হিসেবে চিহ্নিত। সাইকেল ধনী-গরিবের যান। সহজ সাশ্রয়ী পরিবেশনির্ভর যান হিসেবে আজ সর্বজনস্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। এক কথায়, সাইকেল মানব জাতির অগ্রগতির প্রতীক। দুই শতাব্দী ধরে তার জনপ্রিয়তা। এই মুহূ্র্তে ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ প্রতিদিন সাইকেলে যাতায়াত করে কাজকর্ম করেন সারা বিশ্বে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রফেসর লেসেভ সিবিলস্কি প্রথম এই সাইকেলযানটিকে স্মরণে রেখেই বিশ্বসাইকেল দিবস হিসেবে তকমা দিতে দাবি তোলেন। তুর্কমেনিস্তান সহ ৫৬টি দেশ তাতে সম্মতি জানায়। সাইকে্লের নানাবিধ সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। আর তারই স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপুঞ্জ এই যানটিকে ২০১৮ সালে প্রথম ৩ জুন তারিখটিকে বিশ্ব সাইকেল দিব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ বছর ৩ জুন দ্বিতীয় সাইকেল দিবস।

এই গতির যুগে এসেও সাইকেলকে কেউ হাতছাড়া করতে রাজি নয়। আর একজন ভ্রামণিকের কাছে সাইকেল যে কত মূল্যবান তার অনেক কাহিনি বর্ণিত আছে অভিজ্ঞতালব্ধ বইয়ের পাতায়। দু চাকায় সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়িয়ে তারই স্মৃতিকথা মূলক ‘দু চাকায় দুনিয়া’ নামক একটি বইও লিখেছিলেন সেই ভ্রামণিক। সাইকেলে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে বেড়ানোর কথাও জানা যায়।

সংস্কার আর গোঁড়ামির অন্ধকার থেকে নতুন চেতনা দিয়েছিলেন

রামমোহন রায় জন্মেছিলেন এমন এক সময় যখন এই বাংলার বুকে চারিদিকে তমিস্রা। কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। সেই অন্ধকার ভেদ করে এক নতুন যুগের বার্তা দিতে তাঁকে ঘরে-বাইরে প্রবল প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল। তিরস্কৃত, ধিক্কৃত হতে হয়েছিল পরিবারের মধ্যেই। কিন্তু তিনি থামেননি। নিজে চোখে দেখেছিলেন পরিবারের এক নারীর জ্বলন্ত চিতার লেলিহান শিখায় সহমরণের জীবন্ত আর্তনাদ। সেদিনই তিনি মনে-মনে স্থির সংকল্পে ব্রতী হয়েছিলেন এই সংস্কার ভাঙতেই হবে। গোঁড়া অন্ধ সহমরণের কঠিন জগদ্দলকে সরাবার কঠিন ব্রতে আবদ্ধ হয়েছিলেন। সেই কাজে অনেককে সঙ্গে পেলেও সঙ্গে পাননি সমাজের অধিকাংশকেই।‘সতীদাহ প্রথা’ বিলুপ্তির জন্য দুস্তর পথ তাঁকে পার হতে হয়েছিল। একদিকে সমাজের নীতিবাগীশ ব্র্যাহ্মণ্যবাদ অন্যদিকে অশিক্ষা। আজ থেকে এত বছর আগে তাঁকে কী কঠিন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল আজ আমরা অনুধাবন করতে পারব না, কিন্তু সেদিন তিনিই ছিলেন পথপ্রদর্শক।

১৭৭২ সালে ২২ মে হুগলির রাধানগর গ্রামের এক নিতান্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম। বাবা রামকান্ত বৈষ্ণব মনোভাবাপন্ন, মা তারিণীদেবী তান্ত্রিক ঘরানার। এই দুইকেই তুচ্ছ ও অবজ্ঞা করতে শিখেছিলেন সেই শৈশবেই। গ্রামে শিক্ষা শুরুর পর-পরই তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিহারের পাটনায়। সেখানে হাতেখড়ি ভিন্ন ভাষা শিক্ষায়। তারপর একে-একে সংস্কৃত, ফার্সি, ইংরেজি, আরবি, লাতিন— এসবের পাশাপাশি গ্রিক ভাষাতেও তাঁর ব্যুৎপত্তি জন্মায়। নানা ভাষার শিক্ষার পাশাপাশি সর্বজনীন মহাবিশ্বের শিক্ষার আলো তাঁর চোখেমুখে। তিনি মনে করতেন শিক্ষাই মানুষের মনের সব অন্ধকারকে ঘুচিয়ে দিতে পারে। পাশ্চাত্য শিক্ষাকে ভারতীয় শিক্ষার অঙ্গনে নতুন ভাবে মিলন ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তাই যখন পাটনায় মাদ্রাসায় পাঠ নিচ্ছেন তখনই পাশ্চাত্যের শিক্ষার আলো নূতন উন্মেষ ঘটাচ্ছে তাঁর মনে। একদিকে বেদান্তসার উপনিষদে হাতড়াচ্ছেন হিন্দু সংস্কৃতির শিকড়, অন্যদিকে দ্বারকানাথের সঙ্গে নতুন রূপে ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা। যেখানে ‘একেশ্বরবাদ’কেই প্রাধান্য। উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের সেইসব নবচেতনার উন্মেষের দিনেই ধর্মীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। ১৮১৭ সালে ডেভিড হেয়ারের সঙ্গে হিন্দু কলেজ তৈরি, ১৮২২ সালে অ্যাংলো–হিন্দু স্কুল, বেদান্ত কলেজ সহ নানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তারই পথ ধরে ১৮৩০ সালে শিক্ষাবিদ আলেকজেন্ডার ডাফ-এর সঙ্গে গড়ে ওঠে জেনারেল অ্যাসেম্বলি ইনস্টিটিউশন বর্তমানে যা স্কটিস চার্চ চলেজ। প্রেসিডেন্সি কলেজ গড়ে তোলার মূলেও তাঁর অশেষ অবদান। ‘ব্রাহ্মসমাজ’-এর পাশাপাশি গড়ে তোলেন ‘আত্মীয় সভা’র মতো প্রতিষ্ঠান। গোঁড়া রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ তখন তাঁকে নানা তির্যক অপমানে লাঞ্ছিত করতেও ছাড়েনি। ছড়া কেটে ফিরতেন একদল বিরোধী। যেখানে বলা হয়েছিল- “ব্যাটা সুরাই মেলের কুল/ব্যাটার বাড়ি খানাকুল,/ব্যাটা সর্বনাশের মূল।/ওঁ তৎ সৎ বলে ব্যাটা বানিয়েছে ইস্কুল/ও সে, জেতের দফা করলে রফা/মজালে তিন কুল।’’ শত অপমানেও নীরব থেকে তিনি যোগ্য জবাব দিয়েছিলেন যেদিন সতীদাহর মতো ঘটনা বন্ধ করতে ইংরেজ বিল আনল। সেদিন বহু নারীর কান্না থামিয়ে জয়ের হাসি হেসেছিলেন এই যুগপুরুষ। তিনি ‘রাজা’ রামমোহন রায়। সুদূর ব্রিস্টলে তাঁর মৃত্যুর পর সম্মান জানাতে ভারত সরকার ১৯৬৪ সালে বের করেছিল তাঁর নামাঙ্কিত ডাকটিকিট। পরবর্তীকালে তাঁকে সম্মান জানাতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু সুদূর ব্রিস্টলে পূর্ণাবয়ব ব্রোঞ্জ মূর্তি স্থাপন করে সম্মান জানিয়েছিলেন। এক কথায়, বাংলা ও বাঙালির শিক্ষা চেতনায় যে সমস্ত যুগপুরুষ সবকিছুকে উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শিক্ষার আলোয় সমাজের অন্ধকার ঘোচাতে, তাঁদের মধ্যে রামমোহন ছিলেন অগ্রপথিক। যেন তাঁরই পথে এগিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর। নবজাগরণের নবচেতনার অগ্রপথিক বললেও ভুল হয় না রামমোহনকে। বহু উল্লেখযোগ্য বই লিখেছিলেন। প্রকাশ করেছিলেন সম্বাদকৌমুদী নামক পত্রিকা। যার মধ্য দিয়ে তিনি সে সময়ের মানুষকে শিক্ষার আলোকে উদ্ভাসিত করতে চেয়েছিলেন।

 

দুটি ডিগ্রি কোর্স একসঙ্গে করা যায় কি ?

Employment, Central Government Employment

এখন গ্র্যাজুয়েশন কোর্স করছেন কোনো একটি ইউনিভার্সিটি থেকে। ভাবছেন, আরেকটি কোর্স করবেন। পেশামুখী কোনো কোর্স বা অন্য একটি ভালো লাগার বিষয় নিয়ে কোর্স করবেন অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কীভাবে করবেন? বা, দুটি কি রেগুলার হিসাবে করবেন নাকি একটি কোর্স দূরশিক্ষায়? এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তর ধন্ধের মধ্যে পড়তে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের।  পড়াশুনা চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সময়ের মূল্য সবথেকে বেশি। নিজেকে কর্মজগতে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং কেরিয়ারের একাধিক রাস্তা খুলে রাখার জন্য বিভিন্ন কোর্স করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কলেজের পাশাপাশি আর কি কোনো কোর্স করা যায় বা কীভাবে করা যায়, এসব বিষয় এবার একটু পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার।

শিক্ষাগত বা পেশাগত কোর্স সাধারণত তিন রকমের হয়ে থাকে। এগুলি ডিগ্রি, ডিপ্লোমা এবং সার্টিফিকেট। এর মধ্যে সার্টিফিকেট ভিত্তিক কোর্স নিয়ে সেরকম কোনো অসুবিধা নেই। বিভিন্ন সরকারি, সরকার অনুমোদিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে পেশাগত কোনও সার্টিফিকেট কোর্স করতেই পারেন। সমস্যা তৈরি হয় ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা কোর্স নিয়ে।

২০১২ সালে ইউজিসি অর্থাৎ ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন একসঙ্গে একাধিক ডিগ্রি কোর্স করা যাবে কিনা বা কীভাবে করা যাবে এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করে। সেবছর অক্টোবরে ইউজিসি এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করে। নির্দেশিকা নম্বর: D. 0. No.1-6/2007(CPP-II) December, 2012. সেটি সংশ্লিষ্ট সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হয় তাঁদের মতামত নেওয়ার জন্য।

সেই নির্দেশিকায় জানানো হয়—

১) দুটি রেগুলার ডিগ্রি কোর্স একসঙ্গে করা যাবে না। একজন ছাত্র/ ছাত্রী কোনো  বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যদি একটি রেগুলার মোডে ডিগ্রি কোর্স করেন, তাহলে তিনি এই কোর্সের সঙ্গে কেবলমাত্র আরেকটি ডিগ্রি কোর্স করতে পারবেন ওপেন/দূরশিক্ষার মাধম্যে। সেক্ষেত্রে দূরশিক্ষার কোর্সটি বর্তমানে যে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ছেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যদি কোনো দূরশিক্ষা কোর্স করানো হয় অথবা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, যে-কোনও জায়গা থেকেই করতে পারবেন।

২) কোনো ছাত্র-ছাত্রী একটি রেগুলার কোর্সের সঙ্গে কেবলমাত্র আরেকটি সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা বা অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা বা পিজি ডিপ্লোমা কোর্স করতে পারেন। এই কোর্সগুলি রেগুলার বা দূরশিক্ষা যে-কোনো মাধ্যমেই করা যেতে পারে।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ইতিবাচক কোনো প্রত্যুত্তর দেয়নি। পরবর্তীকালে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন থেকে এই বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি নম্বর: F.No: 16/2007 (CPP-II), Dated: 15th January, 2016. এই বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেওয়া হয়, যে পূর্বগঠিত কাউন্সিল থেকে দুটি ডিগ্রি কোর্স একসঙ্গে চালানোর জন্য কোনো ইতিবাচক সম্ভাবনা পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ফার্স্ট ডিগ্রি অ্যান্ড মাস্টার ডিগ্রি রেগুলেশন, ২০০৩ অনুযায়ী পাঠক্রম পরিচালনা করতে হবে। দুটি ডিগ্রি কোর্স  একত্রে করা যাবে না।

কোনও ছাত্র-ছাত্রী যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো কোর্স করতে থাকেন, সেই সময় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হতে গেলে মাইগ্রেশন চাওয়া হয়। সেই ছাত্র-ছাত্রী যেহেতু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করা আছে, সেহেতু তাঁকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হতে গেলে পূর্বের ইউনিভার্সিটি থেকে মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট দাখিল করতে হয়। ফলত, এই দিক থেকেও ছাত্র-ছাত্রীর দুটি ডিগ্রি কোর্স করা একত্রে সম্ভব নয়।

তবে একটি ডিগ্রি কোর্স করার পাশাপাশি আরেকটি ডিপ্লোমা বা অ্যাডভাসন্ড ডিপ্লোমা কোর্স করার ক্ষেত্রে আলাদা করে কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে কোনো ছাত্র- ছাত্রী এরকম ধরনের কোনো কোর্স করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত হবে।

 

 

Degree Course, Course, Distance Course