fbpx

তিন বাহিনীতে ৪১৭ পুরুষ ও মহিলা গ্র্যাজুয়েট

ভারতীয় স্থল, বিমান ও নৌবাহিনীতে ৪১৭ জন গ্র্যাজুয়েট তরুণ-তরুণীকে নিয়োগ করা হবে, বিভিন্ন কোর্সে ট্রেনিং দিয়ে। প্রার্থী বাছাই হবে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস এগজামিনেশন (২) ২০১৯-র মাধ্যমে (এসএসসি উইমেন (নন-টেকনিক্যাল কোর্স) সহ)। আবেদন করতে হবে অনলাইনে। নিয়োগ হবে নিচের কোর্সগুলিতে ট্রেনিং দিয়ে। এই এগজামিনেশন নোটিস নং- 10/2019.CDS-II, Dated 12.06.2019.

কোর্স অনুযায়ী শূন্যপদের বিন্যাস: ১) ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি, দেরাদুন, ১৪৭তম কোর্স,  জুলাই ২০১৯ কোর্স। শূন্যপদ: ১০০ (১৩টি পদ এনসিসি ‘সি’ সার্টিফিকেটধারী (আর্মি উইং)-দের জন্য)। (২) ইন্ডিয়ান ন্যাভাল অ্যাকাডেমি, অঝিমালা, জুলাই ২০১৯ কোর্স। শূন্যপদ ৪৫ (০৬টি পদ এনসিসি ‘সি’ সার্টিফিকেটধারী (ন্যাভাল উইং)-দের জন্য)। (৩) এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমি, হায়দরাবাদ (প্রি-ফ্লাইং) ট্রেনিং কোর্স, জুলাই ২০২০ কোর্স, নম্বর: ২০৮/ এফ (পি) কোর্স। শূন্যপদ ৩২। (৪) অফিশার্স’ ট্রেনিং অ্যাকাডেমি, চেন্নাই, ১১২তম এসএসসি কোর্স (ফর মেন), অক্টোবর ২০২০। শূন্যপদ ২২৫ (৫০টি পদ এনসিসি ‘সি’ সার্টিফিকেটধারীদের জন্য)। (৫) অফিসার্স’ ট্রেনিং অ্যাকাডেমি, চেন্নাই, ২৬তম এসএসসি উইমেন (নন-টেকনিক্যাল) কোর্স। অক্টোবর ২০২০ কোর্স। শূন্যপদ ১৫।

যোগ্যতা: ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি ও অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমির জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স পাশ করে থাকতে হবে। ইন্ডিয়ান ন্যাভাল অ্যাকাডেমির জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি কোর্স পাশ হতে হবে। এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমির জন্য যে-কোনো শাখায় গ্র্যাজুয়েট হতে হবে, তবে উচ্চমাধ্যমিকে ফিজিক্স এবং ম্যাথমেটিক্স নিয়ে পড়ে থাকতে হবে। অথবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক। যাঁরা চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষায় বসেছেন বা বসবেন তাঁরাও শর্তসাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন, তবে আর্মি/ নেভি/ এয়ারফোর্স প্রথম পছন্দ হিসাবে বেছে থাকলে গ্র্যাজুয়েট হবার অন্তত প্রভিশনাল সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে এসএসবির ইন্টারভিউয়ের প্রথম দিন বা নির্দেশিত স্থানকালে।

মহিলারা (অবিবাহিত)  শুধুমাত্র অফিসার্স’ ট্রেনিং অ্যাকাডেমি, চেন্নাই-২৬তম এসএসসি উইমেন (নন-টেকনিক্যাল) কোর্সের ক্ষেত্রেই আবেদন করতে পারবেন। বাকি সবই অবিবাহিত (কেবল অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমির শর্ট সার্ভিস কমিশনের কোর্সের ক্ষেত্রে বিবাহিত/ অবিবাহিত) পুরুষদের জন্য। বিবাহবিচ্ছিন্ন/ বিপত্নীকরা অবিবাহিত বলে গণ্য হবেন না।

বয়সসীমা: ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিইন্ডিয়ান ন্যাভাল অ্যাকাডেমির জন্য প্রার্থীর জন্মতারিখ ২ জুলাই ১৯৯৬-এর আগে হবে না বা ১ জুলাই ২০০১-এর পরে হলে আবেদন করা যাবে না। এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমির জন্য প্রার্থীর জন্মতারিখ ১ জুলাই ২০২০ তারিখে ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ জন্মতারিখ ২ জুলাই ১৯৯৬-এর আগে হবে না বা ১ জুলাই ২০০০-এর পরে হবে না। সিপিএল থাকলে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ২৬ বছর।

৪ ও ৫ নম্বরের অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমির জন্য জন্মতারিখ ২ জুলাই ১৯৯৫-এর আগে হবে না বা ১ জুলাই ২০০১-এর পরে হবে না।

শারীরিক মাপজোক: পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা হতে হবে অন্তত ১৫৭.৫ সেমি (নেভির জন্য ন্যূনতম ১৫৭ সেমি, এয়ারফোর্সের জন্য ন্যূনতম ১৬২.৫ সেমি)। মহিলাদের ক্ষেত্রে উচ্চতা অন্তত ১৫২ সেমি। পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দারা উচ্চতার ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন নিয়মানুযায়ী। সবারই বয়স ও উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওজন থাকতে হবে। যেমন, ১৫৭ সেন্টিমিটার উচ্চতা হলে ১৮ বছর বয়সের ক্ষেত্রে ওজন থাকতে হবে ৪৭ কেজি, ২০ বছর বয়সের ক্ষেত্রে ৪৯ কেজি, ২২ বছর বয়সের ক্ষেত্রে ৫০ কেজি। মহিলাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ১৪৮ সেমি উচ্চতায় ওজন হতে হবে ২০ বছর বয়স হলে ৩৯ কেজি, ২৫ বছর হলে ৪১ কেজি, ৩০ বছর হলে ৪৩ কেজি। পুরো মাপকাঠির চার্ট পাবেন ইউপিএসসির এই পরীক্ষা সংক্রান্ত ওয়েবপেজে। নেভির ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি থাকতে হবে সাধারণ চোখে ৬/১২। চশমা সহ ৬/৬। মায়োপিয়া বা হাইপারমেট্রোপিয়া থাকলে তা যথাক্রমে -১.৫ ও + ১.৫-এর মধ্যে হতে হবে। বাইনোকুলার ভিজন-থ্রি থাকতে হবে। এয়ারফোর্সের ক্ষেত্রে পায়ের মাপ হতে হবে ন্যূনতম ৯৯ সেমি। সর্বোচ্চ ১২০ সেমি। উরুর মাপ ৬৪ সেমির বেশি হওয়া চলবে না। বসে উচ্চতা হতে হবে  ন্যূনতম ৮১.৫ ও সর্বোচ্চ ৯৬ সেমি। দূরের দৃষ্টিশক্তি থাকতে হবে একচোখে ৬/ ৬ অপর চোখে ৬/৯। হাইপারমেট্রোপিয়া থাকলে সংশোধিত দৃষ্টিশক্তি ৬/ ৬ হলেও চলবে। কানে শোনার ক্ষমতা, বুকের এক্স-রে ইত্যাদি পরীক্ষাও করা হবে। হাইপারমেট্রোপিয়া থাকলে ২.০ ডি এসপিএইচ বেশি হওয়া চলবে না। রঙ চেনার ক্ষমতা থাকতে হবে সিপি-১। মায়োপিয়া থাকলে -০.৫-এর মধ্যে থাকতে হবে।

শারীরিক সক্ষমতা: শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিন ২ কিমি থেকে ৪ কিমি ১৫ মিনিটে দৌড়নো, একবারে অন্তত ২০টি করে পুশআপ ও সিটআপ, অন্তত ৮টি করে চিনআপ, রোপ ক্লাইম্বিং ৩ থেকে ৪ মিটার— এগুলি করা যেতে পারে।

শারীরিক সক্ষমতা, যোগ্যতা, আসন সংরক্ষণ, ডিউটি ও অন্যান্য শর্তাবলি বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে www.upscpnline.nic.in ওয়েবসাইটে।

বেতনক্রম: র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী বেতনক্রম বিভিন্ন রকম। যেমন লেফটেন্যান্ট র‍্যাঙ্ক থেকে শুরু করে ক্রমশ পদোন্নতির ফলে মেজর জেনারেল পর্যন্ত র‍্যাঙ্কে ওঠা যায়। লেফটেন্যান্ট পদে লেভেল ১০ অনুযায়ী মূল বেতন ৫৬১০০-১৭৭৫০০ টাকা। ক্যাপ্টেন পদে লেভেল ১০বি অনুযায়ী ৬১৩০০-১৯৩৯০০ টাকা। মেজর পদে লেভেল ১১ অনুযায়ী ৬৯৪০০-২০৭২০০ টাকা। লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে লেভেল ১২এ অনুযায়ী ১২১২০০-২১২৪০০ টাকা। কর্নেল পদে লেভেল ১৩ অনুযায়ী ১৩০৬০০-২১৫৯০০ টাকা। ব্রিগেডিয়ার পদে লেভেল ১৩এ অনুযায়ী ১৩৯৬০০-২১৭৬০০ টাকা। মেজর জেনারেল পদে লেভেল ১৪ অনুযায়ী ১৪৪২০০-২১৮২০০ টাকা। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচএজি স্কেল পদে লেভেল ১৫ অনুযায়ী ১৮২২০০-২২৪১০০ টাকা। এইচএজি+স্কেল লেভেল ১৬ অনুযায়ী ২০৫৪০০-২২৪৪০০ টাকা। ভিসিওএএস/ আর্মি সিডিআর/ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (এনএফএসজি) লেভেল ১৭ অনুযায়ী ২২৫০০০ টাকা। সিওএএস পদে লেভেল ১৮ অনুযায়ী ২৫০০০০ টাকা।

প্রার্থী বাছাই: প্রার্থী নির্বাচন করা হবে লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে। ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি, ইন্ডিয়ান ন্যাভাল অ্যাকাডেমি ও এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমির জন্য পরীক্ষা হবে ৩০০ নম্বরের। সময় ৬ ঘণ্টা। ইংরাজি, জেনারেল নলেজ ও এলিমেন্টারি ম্যাথমেটিক্স এই তিনটি বিষয়ে প্রতিটিতে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমির ক্ষেত্রে পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরের। সময় ৪ ঘণ্টা। ইংরাজি, জেনারেল নলেজ বিষয়ে প্রতিটিতে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। প্রশ্ন হবে অবজেক্টিভ টাইপের। জেনারেল নলেজ ও এলিমেন্টারি ম্যাথমেটিক্স বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে ইংরাজি ও হিন্দি ভাষায়। নেগেটিভ মার্কিং থাকবে। সফলদের ইন্টারভিউয়ে ডাকা হবে। পরীক্ষার ৩ সপ্তাহ আগে ই-কার্ড পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে, ডাউনলোড করে নিতে হবে।

আবেদনের ফি: ২০০ টাকা। চালান ডাউনলোড করে এসবিআই-এর যে-কোনো শাখায় ক্যাশে/ এসবিআইয়ের নেট ব্যাঙ্কিং/ অনলাইনে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ফি দেওয়া যাবে।

আবেদনের পদ্ধতি: আবেদন করতে হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। www.upsconline.nic.in  ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আবেদন করার আগে নিজের ছবি ও সই জেপেগ ফরম্যাটে স্ক্যান করে নেবেন। সই ও ছবির মাপ ৪০ কেবি-র বেশি বা ৭ কেবির কম যেন না হয়, সই ৫ কেবির কম নয়। তবে তার আগে চালান ডাউনলোড করে ব্যাঙ্কে টাকা জমা দিতে হবে। সঠিক ভাবে পূরণ করা ফর্ম সাবমিট করার আগে ভালো করে দেখে নেবেন। ইমেল মারফত জরুরি তথ্য পাঠানো হবে। তাই একটি বৈধ ইমেল আইডি থাকতে হবে। অনলাইনে ফর্ম সাবমিট করার পর রেজিস্ট্রেশন স্লিপের সিস্টেম জেনারেটেড প্রিন্ট-আউট নিয়ে নেবেন। তবে তা কোথাও পাঠাতে হবে না। পরে প্রয়োজন হবে। আবেদন করতে পারবেন ৮ জুলাই ২০১৯ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জানা যাবে http://upsc.gov.in এবং www.upsconline.nic.in ওয়েবসাইটে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *