fbpx

শিক্ষাক্ষেত্রে কতটা আলাদা উন্নত দেশগুলি ? দেখে নিন একনজরে

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একসময় কক্ষের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এসে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির প্রাঙ্গণে পড়াশোনার প্রথা চালু করেছিলেন, এখন পড়াশুনার অনেকটা অংশ নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে কম্পিউটার, মোবাইল, অ্যাপসের মাধ্যমে।

আসলে সময়, পরিস্থিতি , বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন মানব সমাজের উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের জীবনধারাকে বদলে দেয়,  যার প্রভাব পরে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আঙ্গিকও পরিবর্তিত হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।

প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যন্ত সময়কাল ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যতের রাস্তা তৈরি করে দেয়। সবাই এটা জানেও যে, কোনও কিছুকে শক্তিশালী করে তোলার জন্যে, তার ভিতটা সুদৃঢ় হওয়াটা খুব জরুরি। অর্থাৎ শিক্ষাক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েদের প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে উপযুক্তভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যারা অনেকগুণ এগিয়ে, সেইসমস্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে একটু নজর দেওয়া যাক—

ফিনল্যান্ড: এডুকেশন সিস্টেম-এর কথা উঠলে যে দেশের কথা প্রথমে আসবে তা হল ফিনল্যান্ড।  ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট -এর রিপোর্ট যা বলছে, তাতে এই দেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকে। ৬ বছর না হলে এখানকার বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারে না। তার আগে পর্যন্ত পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে হেসে-খেলে কাটিয়ে দেওয়ার সময়। প্রথম স্কুলে যাওয়ার পর খেলা-ধুলার মাধ্যমে তাদের প্রথম পাঠ্যক্রম শেখানো হয়।  ৭ বছর বয়স থেকে মূল শিক্ষায় যুক্ত হতে পারে। পরবর্তীকালে তাদের এমন বিষয় বেছে নিতে হয়, যে বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশুনা বা কাজের ক্ষেত্রে যেন “ডেড এন্ডে’ না আসে।

সুইজারল্যান্ড: এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে মানা হয়। এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শুরু থেকেই ছেলে-মেয়েদের চারটি রাষ্ট্রীয় ভাষা শেখানো হয়। এই বহুভাষিক শিক্ষাব্যবস্থা পরবর্তীকালে ছাত্র-ছাত্রীদের পেশার ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধা পাইয়ে দেয়। এছাড়াও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাকাডেমিক সিস্টেমের পাশাপাশি অ্যাপ্রেন্টিস ব্যবস্থা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই পড়াশুনাটাকে কর্মমুখী করে দেওয়া হয়েছে।

কানাডা: উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গেলে অবশ্যই বলতে হবে কানাডার কথা। এখানে একটু উঁচু ক্লাস থেকেই অ্যাসাইনমেন্ট ভিত্তিক পড়াশুনার প্রথা চালু রয়েছে। সেগুলি করার জন্য যথেষ্ট সময়ও দেওয়া হয় ছাত্র-ছাত্রীদের। এ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নিজের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা ও বিচারবোধ গড়ে নেওয়ার একটা সুযোগ থাকে। যে কোনো স্কুলেই পড়াশুনার পাশাপাশি হেন্ কোনো বিষয় নেই যেটা হাতে-কলমে শেখ যায় না। গান, নাচ, অর্কেস্ট্রা থেকে শুরু করে প্রায় যে-কোনো ধরনের খেলাও রয়েছে স্কুল স্তরেই।

দক্ষিণ কোরিয়া:  দক্ষিণ কোরিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশের  শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিমান  সবথেকে বেশি। এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আবার খুবই শৃঙ্খলাপরায়ণ  ও নিয়মমাফিক। প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকেই এখানে যথেষ্ট নিয়মমাফিক পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে। এমনকি প্রাক-প্রাথমিক স্তরে সপ্তাহের প্রতিদিনই বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো হয়। মূলত খেলাধুলার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ হয় এই সময়। ছাত্র-ছাত্রীদের সু-শিক্ষা ব্যবস্থা আরও সংহত করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভালো পরিমাণ বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

এই সমস্ত দেশগুলোর পঠন-পাঠন ব্যবস্থা ঘেঁটে দেখলেই বোঝা যায়, তাদের নিজেদের দেশের শিক্ষার মানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে  উন্নত ও আধুনিক মানের পদ্ধতি চালু রয়েছে, যা অনেকটাই অনুকরণীয় অন্যান্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ও মানের উন্নতির জন্য।

 

 

 

 

Education in India, Education System in India, Best Education System

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *