উচ্চমাধ্যমিক তো হল, এখন কেরিয়ার কোন দিকে?

উচ্চমাধ্যমিক দেওয়ার পরেই ছাত্র- মধ্যে প্রবণতা থাকে নিজেদের পছন্দসই কেরিয়ারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। জেনারেল ডিগ্রি কোর্স, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা ল, ম্যানেজমেন্ট-এর মতো চিরাচরিত পেশাভিত্তিক পড়াশুনার বাইরে গিয়েও একাধিক নিত্যনতুন বিষয় রয়েছে, যেগুলিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভালো কাজের জগতে যাওয়া যায়। ছাত্র- জন্য তুলে ধরা হল এরকম কিছু বিষয়ের খোঁজখবর –
১) ফ্যাশন টেকনোলজি –
ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে মূলত মার্কেট রিসার্চ, ডিজাইনিং এবং ম্যানুফাকচারিং এই তিন বিভাগের কাজ হয়ে থাকে। শিল্পকলা, নক্সা নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে ফ্যাশন ডিজাইনিং-এর পর পড়াশুনা করার জন্য নূন্যতম উচ্চমাধ্যমিক যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হয়ে হতে হবে। বাচন দক্ষতা এবং শিল্প, আঁকাজোকা, টেলারিং এরকম কিছুর উপর কোর্স করা থাকলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। ৫০ শতাংশ নম্বর সহ উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ যোগ্যতা থাকলে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন স্তরে পড়াশুনা করা যেতে পারে। কলকাতায় রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশান টেকনোলজি, ডব্লুবিইউটি থেকে অ্যাপারেল প্রোডাকশন- উপর বিটেক কোর্স হয়ে থাকে। স্বল্প শিক্ষাগত যোগ্যতায় (অষ্টম শ্রেণি) বিভিন্ন ধরনের কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। রাজ্যের বাইরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশান টেকনোলজি ( দিল্লি) ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব আর্ট অ্যান্ড ফ্যাশন টেকনোলজি (মুম্বাই) রয়েছে এই বিষয় নিয়ে পড়াশুনার জন্য। নিফটের মতোই কলকাতা সহ সারা দেশে ছড়িয়ে আছে অ্যাপারেল ট্রেনিং সেন্টার।
২) ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং –
ঘর, বাসস্থান, রান্নাঘর, বাথরুম, হোটেল, রিসেপশন থেকে শুরু করে রিসর্ট, সেমিনার হল, স্টুডিও, থিয়েটার সমস্ত ক্ষেত্রে রং, ব্যবহার্য জিনিস, ডিজাইনিং অবজেক্ট, ফেংশুই, শো- ব্যবহার করে, বৈজ্ঞানিক ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে তার সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং। ফাইন আর্টস নিয়ে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স রয়েছে। এর মধ্যে ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং নিয়ে স্পেশ্যালাইজেশন রয়েছে। সাধারণত অঙ্ক/ ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইংরেজি নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ যোগ্যতা সম্পূর্ণ করার পর এই বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করে যেতে পারে। বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স বা সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়ে থাকে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে ১০+ ২ যোগ্যতাই চাওয়া হয়ে থাকে। কলকাতায় বিড়লা ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড লিবারেল সায়েন্স রয়েছে। এছাড়াও অনেক বেসরকারি ইনস্টিটিউট রয়েছে, যেখানে ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং নিয়ে ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়ে থাকে।
৩) ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট
নিজেদের অবসর বিনোদন বা বিলাসিতা বা পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষামূলক সেমিনার বা কর্পোরেট মিটিং যে-কোনো কিছুকেই বর্তমানে বলে ধরা হয়। এই সমস্ত ইভেন্টগুলিকে ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে, সময় থেকে শুরু করে আতিথেয়তা, আয়োজন সমস্ত কিছু কীরকম নিয়মমাফিক ভাবে হয়ে থাকে। এই সমস্ত ইভেন্টকে সুসংহত এবং পেশাদার পদ্ধতিতে করে তোলার জন্য তৈরি হয়েছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ডিপ্লোমা বা অ্যাডভাসন্ড ডিপ্লোমা কোর্স হয়। এছাড়া ম্যানেজমেন্ট কোর্স হিসাবে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের উপর এমবিএ কোর্স হয়। বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এই বিষয় নিয়ে সার্টিফিকেট কোর্সও হয়। পাবলিক রিলেশন নিয়ে পড়াশুনা করলেও এই পেশায় আসার সুযোগ থাকে। কলকাতাতে বিড়লা স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানেজমেন্ট কলেজ ছাড়াও একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট- কোর্স করানো হয়ে থাকে।
৪) গ্রাফিক্স ডিজাইনিং 
ভিশুয়াল ইনফরমেশনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় মাধ্যম হল গ্র্যাফিক ডিজাইনিং। মুদ্রণ বা ওয়েব মাধ্যমে লোগো, নিউজ লেটার, সাইনবোর্ড, ব্যানার, ব্রশিওর, ওয়েব ডিজাইনিং সমস্ত ক্ষেত্রেই গ্র্যাফিক্যাল আর্টের প্রয়োজন রয়েছে। সফটওয়্যারের সাহায্যে এই ডিজাইনিং পরিবেশন করেন গ্র্যাফিক ডিজাইনাররা। উচ্চমাধ্যমিকের পর ফাইন আর্টস নিয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি করা যেতে পারে। গ্র্যাফিক ডিজাইনিং- উপর স্নাতক ডিগ্রি করা যায়। ভিশুয়াল কমিউনিকেশনের উপর ১ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সও হয়। এর বাইরে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর একাধিক নামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাফিক্স জিজাইনিং উপর ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করা যেতে পারে। মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রাম নিয়ে কোর্স করানো হয়ে থাকে এসব ক্ষেত্রে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার এডেড ডিজাইন কোর্সও হয়ে থাকে। ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, ইন- কোয়ার্ক এক্সপ্রেস, কোরেল- এরকম বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যারে কাজের দক্ষতা আনা প্রয়োজন।
৫) বিদেশি ভাষা শিক্ষা
আঞ্চলিক ভাষা এবং ইংরেজির পাশাপাশি অন্য দেশের কোনো ভাষা শিখে বিদেশি কোম্পানিগুলিতে কাজ করার সুযোগ পান ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারপ্রেটাররা। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সংস্কৃতিগতভাবে ভারতের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পরিধি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে। বাড়ছে ভাষাগত সংযোগরক্ষার প্রয়োজন। এই প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি ভাষা নিয়ে ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করা যেতে পারে। উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরেই নিজের পছন্দমতো বিদেশি ভাষা নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া যেতে পারে। তবে স্নাতক স্তরে পড়াশুনা করার পর বিশেষ কারণে স্প্যানিশ, ল্যাটিন ভাষাগুলি শেখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সও অনেক কাজে লাগে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় রাশিয়ান ভাষা নিয়ে পিএইচডি, এবং চিনা, ফরাসি, জার্মান, কোরিয়ান, পার্সি, রাশিয়ান, উর্দু বিষয় নিয়ে সার্টিফিকেট এবং ডিপ্লোমা স্তরে পড়ানো হয়ে থাকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ান, পর্তুগিজ, স্প্যানিশ, কোরিয়ান, জাপানি, চিনা নিয়ে সার্টিফিকেট এবং ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি, ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ান, জাপানি, পার্সি, রাশিয়ান নিয়ে ডিপ্লোমা, অ্যাডভাসন্ড ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ফরাসি, জার্মান, চিনা, জাপানি, স্প্যানিশ, ইতালিয়ান, আরবিতে ৬ মাসের সার্টিফিকেট কোর্স, ২ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়। এছাড়াও রবীন্দ্রভারতী থেকে ট্র্যান্সস্লেশন এবং ট্র্যান্সকালচারাল স্টাডিজ নিয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স হয়, এই কোর্সের জন্য যোগ্যতা লাগে গ্র্যাজুয়েট এবং ইংরেজি ও বাংলা/ ভালো জ্ঞান। গোর্কি সদন, ম্যাক্সমুলার ভবন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, বৃটিশ কাউন্সিল ইত্যাদি নানা সংস্থা তাদের দেশের ভাষার কোর্স করায়।
৬) কল সেন্টার জব 
গত কয়েক দশকে কাজের বাজরে বিপুল জায়গা তৈরি করেছে কল-সেন্টার রিলেটেড পেশা। কোন ধরনের প্রোডাক্ট, সার্ভিসিং প্রবলেম ম্যানুফ্যাকচারিং জনিত সমস্যা, টেকনিক্যাল জিজ্ঞাস্য, রিসারভেশন, সিকিউরিটি সংক্রান্ত সহায়তা, যে কোন কিছুর জন্যেই মানুষ ঘরে বসেই হাতে তুলে নেন ফোন, ভার্বাল কমিউনিকেশনের মাধ্যমে সঠিক নির্দেশিকা দেওয়া হয় কাস্টোমার বা উপভোক্তাদের। টেলিকম ফেসিলিটি, এক বিশাল ডেটা বেস এবং ইন্টারনেট সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে পরিষেবা দিয়ে থাকেন কল সেন্টার পার্সোনালিটিরা। অনেক সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকলেও উন্নতমানের কমিউনিকেশন স্কিল থাকলে পেশায় উন্নতি করা সম্ভব। দুটি বা তিনটি ভাষায় পরিষ্কার, স্পষ্ট উচ্চারণ, সুন্দর বাচনভঙ্গিতে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করতে হবে। রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচার, ব্রিটিশ কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া বা যাদবপুর ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসেও স্পোকেন ইংলিশের ব্যাপারে কোর্স করানো হয়। স্পোকেন ইংলিশ নিয়ে পড়াশুনা করার জন্য কলকাতায় বেসরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠানও আছে।
৭) ফায়ার অ্যান্ড সেফটি এডুকেশন 
কর্মস্থল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, প্রোডাকশন এলাকা, কর্পোরেট বিল্ডিং প্রভতি ক্ষেত্রে অগ্নি নির্বাপণ এবং অন্যান্য দুর্ঘটনা প্রবণতাকে দূর করার জন্য ফায়ার অ্যান্ড সেফটি বিষয়ে নিয়ে পড়াশুনা করা স্কিলড কর্মীদের প্রয়োজন। ফায়ার অ্যান্ড সেফটির ব্যাপারে উন্নতমানের নির্বাপক বা সিকিউরিটি সিস্টেম তৈরি থেকে শুরু করে বিপর্যয় বা মোকাবিলার সময় নিরাপত্তাপ্রদান সবকিছুই জুরে রয়েছে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যে। ১০+ যোগ্যতার পর ম্যানেজমেন্ট কোর্স নিয়ে পড়াশুনা করা যায়। ওই একই যোগ্যতাতেই অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সও করা যেতে পারে। এই পেশায় শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি দৈহিক গঠন, মনোবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করে। অত্যন্ত বিপদসঙ্কুল পরিবেশে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বিপদ, বিপর্যয়ের সময় অসংখ্য মানুষ নির্ভরশীল হয়ে উঠবে ফায়ার, সেফটি ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যের উপর। কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফায়ার অ্যান্ড সেফটি ম্যানেমেন্ট, সেন্ট্রাল লেবার ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং- অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান এবং একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই বিষয়ের উপর ডিপ্লোমা বা পিজি ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়।
৮) ক্রিয়েটিভ রাইটিং 
ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। নিজের লেখার ক্ষমতা, অভ্যাস এবং প্রতিভার উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। তবে অবশ্যই ভাষা এবং বাক্যগঠন, শব্দভান্ডার তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার যথেষ্ট ভমিকাও রয়েছে। যে ভাষা বা ভাষাগুলি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে, প্রথমত সেই ভাষাগুলি যথেষ্টভাবে রপ্ত করার জন্য পড়াশুনা করা দরকার। উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল মানের পরীক্ষা পাশ করার পর নির্দিষ্ট ভাষা নিয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনা করা যায়। ইন্দিরাগান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাইটিং বিষয়ের উপর ডিপ্লোমা এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়। দূরশিক্ষায় এখান থেকে হিন্দি এবং ইংলিশ বিষয়ের ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে ডিপ্লোমা বা পিজি ডিপ্লোমা করা যেতে পারে। দিল্লির জরহলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ এমএ কোর্সের মধ্যে ক্রিয়েটিভ রাইটিং একটি বিশেষ পেপার হিসাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। কলকাতার ব্রিটিশ কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ভাষা নিয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনার পরেই এই পেশার যোগ দেওয়ার প্রবণতা বেশি।
৯) ওয়েব ডিজাইনিং কোর্স 
ওয়েব পেজ বা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনকে কম্পিউটারের ভাষার সহায়তায় ডিজাইন করার জন্য প্রয়োজন হয় ওয়েব ডিজাইনারের। ছবি, লেখা, লিঙ্ক, গ্রাফিক্স ব্যবহার করে ওয়েবসাইটকে সাজিয়ে তোলার জন্য প্রয়োজন হয় ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশুনা করার। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশুনা করলে, উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর এই বিষয়টি নিয়ে সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা কোর্স করা যায়। এছাড়া তবে টেকনিক্যাল পড়াশুনার পাশাপাশি নিজের ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এই পেশায়। বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন এইচটিএমএল, এএসপি, পিএইচপি নিয়ে পড়াশুনা করানো হয় এই কোর্সে। নতুন চিন্তাভবনা, নক্সা, লে- মাধ্যমে ডিজাইনিং- কাজে এক ধাক্কায় অনেকটা উন্নতি করা যেতে পারে। কলকাতায় যাদবপুর ইউনিভার্সিটি অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়েব ডিজাইনিং-র উপর কোর্স হয়। এছাড়াও এরিনা মাল্টিমিডিয়া সহ একাধিক নামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখান থেকে ডিপ্লোমা বা অ্যাডভাসন্ড ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়ে থাকে।
১০) হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কিং কোর্স
কম্পিউটার জগতের প্রতি ঝোঁক থাকলে বেছে নেওয়া যেতে পারে এই কোর্স। যে কোন ধরনের পরিষেবা, প্রোডাকশন বা মাল্টিফাংশনাল অফিস থেকে শুরু করে যে কোন ধরনের দপ্তরই বর্তমানে কম্পিউটার পরিচালিত হয়ে গেছে। আর যন্ত্র থাকা মানেই সেটা খারাপ বা বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও ব্যাঙ্কিং, মেডিকেল, এডুকেশন, মিডিয়া, এরকম একাধিক কর্মস্থলে নেটওয়ার্কিং-র উপর কাজ হয়ে থাকে। ইন্টারনেট, সার্ভার, সুইচ, ল্যান এই সমস্ত সহযোগে নেটওয়ার্কিং সিস্টেম তৈরি করা হয়। একসাথে একাধিক কম্পিউটারে কাজ করা, ডেটা কালেকশন, ডেটা ট্রান্সফার সহ একাধিক কাজ সিস্টেমেটিকভাবে কাজ করার জন্য নেটওয়ার্কিং সিস্টেম কম্পিউটার রিলেটেড কাজের জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করে দিয়েছে। যন্ত্রাংশ বিকল বা সমস্যা দূরীকরণ এবং নেটওয়ার্কিং- কাজের জন্য প্রয়োজন রয়েছে প্রশিক্ষিত কর্মীর। এই বিষয়ের উপর সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয় বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে। ডিপ্লোমা কোর্সগুলির জন্য উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। বিজ্ঞান শাখার ছেলে-মেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

One thought on “উচ্চমাধ্যমিক তো হল, এখন কেরিয়ার কোন দিকে?

  • April 27, 2018 at 3:38 pm
    Permalink

    how to admission pharmacy in govt college ?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *