শতবর্ষে মৃণালিনী সারাভাই


ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পকে যে কজন বিশ্বের দরবারে সসম্মানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তাঁদের মধ্যে মৃণালিনী সারাভাইয়ের কথা অবিস্মরণীয়। শোনা যায় ভরতনাট্যম ও কথাকলি নৃত্যের সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৮ হাজারেরও বেশি। তিনি শুধু নৃত্যশিল্পীই ছিলেন না, একশোরও বেশি ড্রান্স ড্রামা, উপন্যাস, কবিতা লিখে গেছেন। আজীবন সংগীত ও শিল্পের মধ্যে কাটানো এই শিল্পীর জীবনের একটা বড় অংশই কেটেছে বিদেশের মাটিতে নৃত্যপ্রদর্শনে। সারা বিশ্ব থেক কুড়িয়ে এনেছেন অসংখ্য সম্মান ও পুরস্কার। অন্যতম প্রেরণা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথের পরামর্শেই শান্তিনিকেতনে এসে শিক্ষা নেন ভরতনাট্যম ও কথাকলি নৃত্যের। বাবা ছিলেন প্রথিতযশা উকিল। সহোদরা লক্ষ্মী সেহগল ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিষ্ঠিত আইএনএ-র অন্যতম সদস্য। দাদাও স্বনামখ্যাত উকিল। এমন পরিবারের কন্যা মৃণালিনী। প্রথম জীবনের কয়েকটা বছর সুইজারল্যান্ডে থাকা এবং সেখানেই প্রথম নৃত্যের তালিম। সেখান থেকে কবিগুরুর আ্শ্রমে। ভারতীয় নৃত্যের মধ্যেই খুঁজে পান জীবনের সুর। সংগীত শিক্ষা ও সেই শিক্ষাকে নিয়ে সারা পৃথিবী ঘুরেছেন এই নৃত্যশিল্পী। বিয়ে হয় প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার অন্যতম পথপ্রদর্শক বিক্রম সারাভাইয়ের সঙ্গে। প্রথম ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পকে কোরিওগ্রাফি করে নতুন পথ দেখান মৃণালিনী। পেয়েছেন ভারতীয় সম্মান পদ্মশ্রী (১৯৬৫), পদ্মভূষণ (১৯৯২)। তাঁর উদ্যোগেই আমেদাবাদে গড়ে ওঠে দর্পণ অ্যাকাডেমি অব পারফর্মিং আর্টস নৃত্যপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই অ্যাকাডেমির সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলেন আজীবন। প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে প্যারিসে ইন্টারন্যাশনাল ডান্স কাউন্সিলের সদস্য হয়েছিলেন। মেক্সিকো সরকার তাঁকে স্বর্ণ পদক দিয়ে সম্মানিত করে। তাঁর নামাঙ্কিত মৃণালিনী আ্যওয়ার্ড চালু রয়েছে ১৯৯৮ সাল থেকে। পেয়েছিলেন কেরালা সরকারের প্রথম নিশাগান্ধী পুরস্কার। ২০১৬ সালে ২০ জানুয়ারি ৯৭ বছরে তিনি মারা যান। ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাঞ্জেনিয়া নরউইচ, নিউইয়র্ক তাঁকে ডিলিট দিয়ে সম্মানিত করে ১৯৯০ সালে। জন্ম কেরালায় ১৯১৮ সালের ১১ মে। সেই হিসেবে এই বছর এই শিল্পীর একশো বছর পূর্ণ হল। মেয়ে মল্লিকা সারাভাই বর্তমান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যশিল্পী। লিখছেন আত্মজীবনী মূলক রচনা ‘অ্যালোন ইজ ট্রু’। শতবর্ষে গুগল ডুডলে স্মরণ করা হল এই মহান নৃত্যশিল্পীকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *