fbpx

জেমস বন্ডের স্রষ্টা ইয়ান ফ্লেমিং

ইয়ান ফ্লেমিং। ব্রিটিশ শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন। পুরো নাম ইয়ান ল্যাঙ্কাস্টার ফ্লেমিং। তাঁর সৃ্ষ্ট চরিত্র জেমস বন্ড। বিশ শতকের সেরা সাসপেন্স ফিকশন হিরো। নাম উচ্চারণ করতে হয় না, শুধুমাত্র কোড নম্বর ০০৭ মানেই জেমস বন্ড। এমনই তাঁর জনপ্রিয়তা, সমগ্র দুনিয়ায়। বিশ্বের প্রান্তে-প্রান্তে খেলনা থেকে পোশাক-আশাক, টুপি থেকে পুরুষদের কোমরের বেল্টও ০০৭ হয়ে উঠে জেমস বন্ডকেই সূচিত করতে। কোনো-কোনো ক্ষেত্রে সৃষ্টি স্রষ্টাকেও ছাড়িয়ে যায়। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। গোয়েন্দা ফিকশন গল্পের এই লেখকের জেমস বন্ড সিরিজের বই রুদ্ধশ্বাসে পড়ার বই কে না জানে! ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত ‘ক্যাসিনো রয়েল’ দিয়ে শুরু। প্রকাশের সঙ্গে-সঙ্গে গোটা ইউরোপ-আমেরিকা জুড়ে ছড়িযে পড়ে এর জনপ্রিয়তা। তারপর একে-একে জেমস বন্ড সিরিজের ১১টি উপন্যাস লিখেছেন ইয়ান ফ্লেমিং। ফ্রম রশিয়া উইথ লাভ (১৯৫৭), ডঃ নো (১৯৫৮), গোল্ড ফিংগার (১৯৫৯) ইত্যাদি। ফিকশন গোয়েন্দা, এবং মাদকতা মিশ্রিত সমস্ত রচনাই প্রায় চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রীর চরিত্রায়ণে। চলচ্চিত্রায়িত হয়ে সারা বিশ্বে জেমস বন্ড চরিত্রটি জনপ্রিয়তা অর্জন করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক সাফল্যও নজর কাড়ার মতো। বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে বিক্রি হয়েছে জেমস বন্ড সিরিজের বইগুলি। জেমস বন্ডের জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে ১৯৬৪ সালে ইয়ান ফ্লেমিং-এর মৃত্যুর পর অনেক লেখক তাঁর লেখার স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখে জেমস বন্ড সিরিজ লিখেছেন। এর থেকেই বলা যায় কখনও-কখনও স্রষ্টাকে ছাড়িয়ে যায় তাঁর সৃষ্টি। জেমস বন্ড আজও উৎসাহী পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয়। জেমস বন্ডের স্রষ্টা ইয়ান ফ্লেমিং জন্মেছিলেন ইংলন্ডের এক ধনী পরিবারে। পড়াশোনা ইংল্যান্ড, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে। স্টক ব্রোকার ও ব্যাঙ্কার হয়ে পেশা জীবনের শুরু। কিন্তু সে পেশা ছেড়ে সাংবাদিকতা করতে শুরু করেন। ১৯২৯ থেকে ১৯৩৩ এই কবছর সাংবাদিকতার পর ব্রিটিশ ইনটেলিজেন্স–এর পদস্থ কর্তা হয়েছিলেন। এই জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে লেখক হয়ে উঠতে সাহায্য করে। এক সময় লন্ডন সান্ডে পত্রিকার ফরেন ম্যানেজারও হয়েছিলেন। সে সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে বাকি জীবন লেখাকেই পুরোপুরি পেশা করে নেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯০৮ সালের ২৮ মে। মৃত্যু ১৯৬৪ সালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *