fbpx

কেরলের আগে দেশের কয়েকটি ভয়ঙ্করতম বন্যাবিপর্যয়ের ঘটনাবলি  

সারা দেশ এখন প্রার্থনারত কেরলবাসীদের জন্য। রাজ্যের একটা বিশাল অংশ জলের তলায়। সারা দেশ এমনকি বিদেশ থেকেও এগিয়ে আসছে সাহায্যের হাত।

দেখে নেওয়া যাক, এরকম আরও কয়েকটি বন্যা বিপর্যয় থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে আমাদের দেশ।

১) এখনও যে স্মৃতি দগদগে হয়ে আছে, ২০১৩ সালের উত্তরবঙ্গের বন্যা। ১৪ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত মুষল ধারায় বৃষ্টিপাতের জন্য বিশেষত উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশের বেশ কিছু অংশ সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু রাজ্য প্রবল বন্যা ও ধ্বসের সম্মুখীন হয়। মন্দাকিনী নদীর জলোচ্ছ্বাস, চোরাবাড়ি গ্লেসিয়ার-এর ধাক্কায় তৈরি হয় বিপর্যয়। প্রায় ১ লক্ষ তীর্থযাত্রী ও রাজ্যবাসী সমস্যার সম্মুখীন হন। ২০১৩ সালে উত্তরাখণ্ড সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৫,৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এই দুর্যোগের জন্য। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চার ধাম গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ যাত্রার রাস্তা বন্ধ রাখা হয় ২ বছর, পুনর্নির্মাণের জন্য। কেদারনাথের পাহাড়ের কাছে বরফ গলনে বন্যা ও ধ্বসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

২) এর আগের আরও একটি বড় বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে ২০০৫ সালে, মুম্বইয়ের বন্যা। ২৬ জুলাই, ২০১৫-এ প্রবল বৃষ্টিপাত (প্রায় ৯৪৪ মিমি) মুম্বইয়ের এক বিশাল মেট্রোপলিটান এলাকাকে জলের তলায় নিয়ে যায়। প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয় মহারাষ্ট্র। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই বিপর্যয়। মুম্বই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট প্রায় ২ দিনের জন্য এবং মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে ১ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।

৩) এরপরেই যে স্মৃতি আমাদের ভারতবর্ষের ইতিহাসে ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে তা হল ২০০৪ সালের সুনামি। ভারত মহাসাগরের কম্পন ভারত সহ একাধিক দেশে বিপর্যয় ঘটায়। প্রায় ৮.৫ মিনিট থেকে দশ মিনিট কম্পনের স্থিতি ছিল। সুমাত্রা ও সিমিউলির কাছে ছিল এপিসেন্টার, ৩০ কিমি গভীর। ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ৭.৫৮ মিনিটে কম্পন হয়। জলোচ্ছ্বাসের সর্বাধিক উচ্চতা ছিল প্রায় ২ কিমি। দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ে। প্রচণ্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ভারতের প্রায় ২,৩০,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এই সুনামির জন্য।

এগুলি ছাড়াও ২০১৬ সালে অসমে বন্যা, ১৯৮৭ সালে বিহারে বন্যা যেখানে কোশি নদীর জলোচ্ছ্বাসের ফলে প্রায় ১৫০০ মানুষের মৃত্যু, ১৯৭৯ সালে মাচু নদীর বাঁধ ভাঙনের ফলে গুজরাটের রাজকোটে বন্যা— এই সমস্ত রাজ্যগুলিকে তথা দেশকে চরম দুর্দশার মধ্যে ফেলে দেয়।

পশ্চিমবঙ্গেও বন্যার ভয়াবহতা দেখা গেছে একাধিকবার। ১৯৭৮-এর ভয়াবহ বন্যায় দক্ষিণ বঙ্গের বহু অঞ্চল ১৮ ফুট জলের তলায় চলে গিয়েছিল। প্রায় দেড়কোটি মানুষ কম-বেশি ভুক্তভোগী। শুধু উত্তরবঙ্গেই গৃহহারা প্রায় ২০ লক্ষ। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরের বন্যায় ৪০০-র বেশি লোক মারা যান, ২০০ জন নিরুদ্দেশ, এক্ষেত্রে প্রায় দেড়কোটি মানুষ গৃহহারা। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মূলত হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৭০টি গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৫-২৭ লক্ষ মানুষ, মারা গেছেন প্রায় ৫০ জন। ২২১টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেন বন্যাদুর্গত ৬৮০০০ মানুষ। সেবছরই উত্তরবঙ্গের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।

প্রতি বছরই নানা মাপের বন্যায় কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। বন্যাপ্রবণ কিছু এলাকার মানুষের দুর্ভোগও প্রায় বাৎসরিক ঘটনা। এখানে ভয়ঙ্করতম বন্যাগুলির কথা স্মরণ করা হল।

 

 

Flood in Kerala, Kerala Flood 2018

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *