fbpx

আজও মহান ডন ব্র্যাডম্যান

বাউলারের বিস্ময় বালকই একদিন ক্রিকেটের সম্রাট হয়ে উঠেছিলেন তিনি ব্র্যাডম্যান। কীর্তি এবং সম্মান সমীহর রেকর্ড খেলার দুনিয়ায় যদি কেউ একশো বছরেরও বেশি সমান মহিমায় বহন করে চলেন তিনি ডন ব্র্যাডম্যান। প্রায় একবাক্যে ক্রিকেটদুনিয়া তাঁকে ক্রিকেটের ঈশ্বরও বলে থাকে। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সেরা ব্যাটিং রেট ৯৪.৯৪ আজও অম্লান। উনিশ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটজীবন শুরু। ১৯২৮ থেকে ১৯৪৮ এতগুলো বছর সবুজ ঘাসের ওপর ব্যাটের মুনশিয়ানা এবং রেকর্ড গড়ার কাহিনি আজ বিশ্বের প্রান্তে-প্রান্তে পরিচিত। ক্রিকেট মানেই ডন ব্র্যাডম্যান, আর ডন ব্যাডম্যান মানেই ক্রিকেট। পুরো নাম স্যার ডোনাল্ড জর্জ ব্র্যাডম্যান। ২৩৪টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, ৫২টি আন্তর্জাতিক টেস্ট এবং বছরে পর বছর সমান দক্ষতায় নিজের কৃতিত্ব এবং মুনশিয়ানাকে জাহির করেই ক্রিকেট দুনিয়ার ‘ডন’ হয়ে উঠেছিলেন। প্রথম খেলাতেই ব্যর্থ হয়েছিলেন। দল থেকে বাদও গেছিলেন। কিন্তু সেই ব্যর্থতাই শিক্ষা দিয়েছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। যা শিক্ষণীয়। শৌর্যময় ব্যাটিং এবং খেলোয়াড়ি মনোভাব এবং একের পর এক সিংহদরজা পেরিয়েছেন তিনি। আর ক্রিকেটীয় সংখ্যাবিদদের কাছে সর্বাগ্রে জায়গা করে নিয়েছিলেন বছরের পর বছর। আজও ক্রিকেটবিশ্ব তাঁকে সর্বাকালের শ্রেষ্ঠ তকমা দিয়ে থাকে। দীর্ঘ ৯২ বছরের জীবনে এমন কোনো সম্মান নেই যা তিনি পাননি। সারা বিশ্বের ক্রিকটামোদী মানুষ যেমন সম্মান করেছেন তেমনই মনের মণিকোঠায় এক আদর্শ ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খেলার মধ্যগগনেই ১৯৪৯ সালে পেয়েছিলেন ‘নাইটহুড’। উইজডেন ক্রিকেটারস’ অ্যালম্যানাক দ্বারা পেয়েছিলেন ১০ বারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি বা সম্মান। তাঁর জীবদ্দশায়ই তাঁর সম্মানে গড়ে উঠেছিল একটি ক্রিকেটীয় মিউজিয়াম যেখানে তাঁর সারা জীবনের স্মরণীয় ঘটনাবলির তথ্য ধরে রাখা আছে। ২০০৮ সালে শতবর্ষের স্মরণে ২০০৯ সালে আইসিসি ক্রিকেট জানিয়েছিল `হল অব ফেম’। বিশ্বের সর্বত্র পেয়েছেন সম্মান আর সেরার খেতাব। তাঁকে নিয়ে বিশ্বের তাবড়-তাবড় ক্রিকেট সাংবাদিক, খেলোয়াড়, সহখেলোয়াড় কুর্নিশ করেছেন, কলমও ধরেছেন সময়ে-সময়ে। কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন। কিন্তু ব্র্যাডম্যানকে দেখতে হবে তাঁর সময়কাল দিয়েই।কেউবলেছে জন্মেছিলেন ১৯০৮ সালের ২৭ আগস্ট। মৃত্যু ২০০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের সম্মানার্থে তাঁর জন্মশতবর্ষে ডাকটিকিট ও মুদ্রা বের করেছিল দেশ অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন থেকে শুরু করে গোটা বিশ্ব থেকেই ক্রিকেটীয় সম্মান এনে দিয়েছিলেন দেশকে। তাঁকে নিয়ে যেমন অসংখ্য লেখা হয়েছে তেমনি নিজেও ব্যাট ছেড়ে কলম তুলে নিয়েছিলেন এবং লিখেছিলেন ‘দ্য আর্ট অব ক্রিকেট’, ‘দ্য স্টোরি অব মাই ক্রিকেট লাইফ’-এর মতো জনপ্রিয় বই। মাঠে বিশাল রানের কৃতিত্বের সারণিতে ৩৩৪ রানের সংখ্যাটি আজও উজ্জ্বল। উজ্জ্বল অস্ট্রেলিয়ার এই পৃথিবীখ্যাত ক্রিকেটার ডন ব্র্যাডম্যান। এ বছর তাঁর জন্মদিনটিকে গুগুলও প্রত্যাশিতভাবেই সম্মানিত করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *