অলিম্পিকে অনন্য নজির

186
0
Tokyo Olympic

বিশ্বের প্রাচীনতম বা ‘গ্রেটেস্ট ইভেন্টস অন দ্য আর্থ’ শুরু হয়ে গেছে টোকিয়োর মাটিতে। এবারের অলিম্পিক্সের সব থেকে বড় তাৎপর্য দর্শকহীন মাঠে মশাল দৌড়ে বা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ২৪ আগস্ট।
সেখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের অ্যাথলিটরা নানান পারদর্শিতা দেখিয়ে কেউ সোনা, কেউ জিতছেন রুপো। রেকর্ড ভাঙাগড়ার এই খেলায় ঘটে চলেছে নানা ঘটনা।
ভারতের হয়ে কাঠকুড়ানি জীবন থেকে অলিম্পিক্সের আলোয় গলায় পরেছেন রুপোর মেডেল ভারতের মীরাবাই চানু।
মণিপুরে এই কন্যার এক অসাধ্য সাধনের কাহিনি। এই মাটি থেকেই এর আগে উঠে এসেছেন মেরি কম।
আরও কাহিনি রচিত হবে আগামী কয়েকদিন। তারই মধ্যে দুটি চমকপ্রদ ঘটনার কথা তুলে ধরা হল।
এক এই ইভেন্টের সবচেয়ে‌ প্রবীণ (৪১)  শ্যুটারের সোনা জয় এবং এখনও পর্যন্ত জাপানি কন্যা মোমিজি নিশিয়ার  সবচেয়ে কমবয়সে সোনার পদক পাওয়া।
জাভেদ ফোরুঘি, শরীরের আসল কলকব্জাতেই ছিল গলদ। হৃদযন্ত্রের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে বড় হওয়া, তাই দৌড়ঝাঁপের কোনো বড় খেলাতেই অংশ নেওয়া তাঁর হয়নি।
না হলে কি হবে, মনের জেদ এবং আকাঙ্খা যদি থাকে তবে কাউকে দমিয়ে রাখা যায় না, যেমন যায়নি জাভেদ ফোরুঘিকেও। এবারের সবচেয়ে প্রবীণ (৪১) শ্যুটার।
১০ মিটার এয়ার পিস্তলে শুধু সোনা জিতলেন না, ভাঙলেন ৬৫ বছরের পুরনো রেকর্ডও।
১৯৫৬ সালে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে শেষ পদক পেয়েছিলেন শ্যুটার মাহমুদ নামজুয়োর।
তাই এবারের ফোরুঘির সোনা জয় এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। যা খুব সহজে আসেনি।
ফোরুঘি পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। এই সেদিনও নিযুক্ত ছিলেন করোনা রোগীদের অক্লান্ত সেবায়। এমনকী এক সময় নিজেও কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
খানিকটা মনোবল ভাঙলেও আবার মনের জোরেই চালিয়ে গেছেন প্র্যাকটিস। নিজে নিজেই। ফিকে হয়ে আসা স্বপ্নকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন ।
হাসপাতালের বেসমেন্টে নিজেই লক্ষ্যভেদের অনুশীলন করেছেন। তাই বলে কোনো কর্তব্যে অবহেলা করেননি। সেই হার না মানা জেদেই স্বপ্নপূরণ হল জাভেদ ফোরুঘির‌ ।
ইরানিয়ান এই শ্যুটারের এই সোনা জয়ের কথা আজ বিশ্বময়। এই সাফল্যে তিনি বলেছেন, ‘যে-কোনো অ্যাথলিটেরই স্বপ্ন থাকে অলিম্পিক্সে সোনা জয়।
সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে কোনোদিনই কোনোকিছুর সঙ্গে আপস করিনি। করিনি কর্তব্যে অবহেলাও।’ ৪১ বছরের ফোরুঘি হৃদযন্ত্রের বিকলতা নিয়েও দেখিয়ে দিলেন লক্ষ্যে অবিচল থাকলে স্বপ্নপূরণ হবেই।
প্রবীণ ফোরুঘি যদি এক নতুন রেকর্ড গড়েন, তা হলে টোকিয়োর এই মঞ্চেই মাত্র ১৩ বছরে সোনার মেডেল গলায় তুলে সবাইকে চমকে দিল মোবিজি নিশিয়া।
জাপানের এই কিশোরীর ছবি আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা সংবাদমাধ্যমে। তার বিষয় ছিল স্কেটবোর্ডিং ( উইমেন্স স্ট্রিট)। যা টোকিয়ো অলিম্পিকে এ বছরই প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নিশিয়ার সঙ্গেই ব্রোঞ্জ পেয়েছে ব্রাজিলের রায়াসা লিল। বয়স ১৩।
এর অনেক আগে ১৯৩৬ সালে সবচেয়ে কম বয়সে সোনা জিতেছিলেন মারিয়োরি গেস্ট্রিং।সেটা ছিল স্প্রিংবোর্ড ডাইভিং।
এ বছর স্কেটবোর্ড ডাইভিংয়ে নজির সৃষ্টি করল জাপানি কন্যা নিশিয়া।
দিন গড়াচ্ছে ।
অলিম্পিকসের আসর ৮ আগস্ট পর্যন্ত। দেখা যাক রেকর্ড তৈরির আরও কত অনন্য নজির সৃষ্টি হয়।
ভাস্কর ভট্টাচার্য